গাজায় অনাহারে প্রতি ৩ জনে ১জন মানুষ

image 5

গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্যসহায়তা সংস্থা, এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় প্রতি তিনজনের একজন না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। পুষ্টিহীনতা ভয়াবহ আকার নিচ্ছে, যেখানে ৯০ হাজার নারী ও শিশুর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল শুক্রবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা গেছে, অপুষ্টির কারণে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে, গত অক্টোবরে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর ক্ষুধা ও অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১২২ জনে।

ইসরায়েল অবরুদ্ধ গাজায় খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি পণ্য প্রবেশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। যদিও দেশটি দাবি করেছে, ত্রাণ প্রবেশে এখন আর কোনো বাধা নেই এবং সব অপুষ্টির জন্য হামাসকেই দায়ী করছে তারা।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজায় চলমান দুর্দশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তা ব্যাখ্যাতীত। কোনো করুণা নেই, সত্য নেই, নেই কোনো মানবতা।” তিনি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বৈশ্বিক সম্মেলনে জানান, ২৭ মে থেকে এ পর্যন্ত ত্রাণ সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

popup 12

উল্লেখ্য, গাজায় জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে। তবে মানবিক সংকটের মাঝেও যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তি সংক্রান্ত নতুন কোনো চুক্তির সম্ভাবনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কাতার থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়া তাদের প্রতিনিধি দল প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় প্রতিদিন আরও তীব্র হচ্ছে, আর বিশ্ব মঞ্চে বিষয়টি যেন সহানুভূতির চেয়ে রাজনৈতিক চাপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।