৭০ দিনে কোরআন মুখস্থ করলো ৮ বছর বয়সী মারুফ

image 319

মাত্র ৭০ দিনে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছে আট বছর বয়সী মো. মারুফ হাসান। একই মাদরাসার আরও এক শিক্ষার্থী—নয় বছরের আব্দুর রহমান—১৪০ দিনে সম্পন্ন করেছে কোরআনের ৩০ পারা। দু’জনই নাটোরের নূরে মদিনা মডেল মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। রোববার (২৩ নভেম্বর) তাদের এই অসাধারণ অর্জনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

একই মাদরাসা থেকে দুই শিশুর এমন বিরল সাফল্যে মাদরাসা, পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, শুরু থেকেই মারুফ ও আব্দুর রহমান অত্যন্ত মনোযোগী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিয়মিত পাঠে অনুরাগী ছিল। নির্ধারিত পড়া যত্নসহকারে শেষ করায় তাদের হিফজ সম্পন্নের গতি ছিল অত্যন্ত দ্রুত।

মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি নূরনবী সিরাজী বলেন, “কোরআনের প্রতি তাদের গভীর অনুরাগ, শৃঙ্খলা এবং কঠোর মনোযোগই এ দ্রুত সময়ে হিফজ সম্পন্নের প্রধান কারণ। আল্লাহর বিশেষ রহমত ছাড়া এমন অর্জন সম্ভব নয়।”

হাফেজ হওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে মারুফ হাসান বলে, “এটা আমার জীবনের বড় অর্জন। দোয়া করবেন, আমি যেন বিশ্বজয়ী হাফেজ হতে পারি।” আর আব্দুর রহমান জানায়, “আল্লাহ আমাকে কোরআন ধারণ করার শক্তি দিয়েছেন। শিক্ষক ও বাবা-মা আমাকে প্রতিদিন অনুপ্রাণিত করেছেন। কোরআনকে জীবনভর ধারণ করাই আমার স্বপ্ন।”

মাদারীপুরের শিবচরের প্রবাসী বেলাল মোল্লার ছোট ছেলে মারুফ হাসান। তার মা বলেন, “এত ছোট বয়সে সন্তানের এমন সাফল্য আমাদের জন্য আল্লাহর বড় নেয়ামত। আমরা চাই, সে ইসলামি জ্ঞান অর্জন করে সমাজ ও দেশের উপকারে কাজ করুক।”

এদিকে আব্দুর রহমানের বাবা, নাটোর সদরের জাঠিয়ান গ্রামের সেন্টু মিয়া বলেন, “আমার সন্তানের এ অর্জন আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের। অল্প বয়সে হিফজ সম্পন্ন করা আল্লাহর বিশেষ কৃপা। আমি দোয়া করি, সে যেন কোরআনের আলোয় সারা জীবন চলতে পারে এবং আদর্শ মানুষ হয়।”