৭২’র সংবিধান রক্ষায় বিএনপিও মরিয়া: শায়খে চরমোনাই

image 73

আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিদেশি প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই)।

শনিবার (৪ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ইসলামী যুব আন্দোলন আয়োজিত ‘স্বাধীনতার পথরেখা—৪৭, ৭১, ২৪: প্রেক্ষিত আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরও প্রকৃত স্বাধীনতা ও জনগণের কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর মতে, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামি ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, যা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি বলেন, শুধু সরকার বা দলের পরিবর্তনে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে না, প্রয়োজন নীতি ও আদর্শের আমূল পরিবর্তন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টি—সব সরকারের সময়ই জনগণ দুর্নীতি ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। তাই প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক নৈতিক পরিবর্তন অপরিহার্য।

শায়খে চরমোনাই আরও বলেন, “১৯৪৭ সালে ধর্মভিত্তিক দেশভাগের স্বপ্ন পূরণ হয়নি, ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে আমরা লড়েছি, কিন্তু আজও দেশ জুলুম ও অবিচারের শিকার।”

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্যায়ের মোহ ছেড়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে ফিরে আসতে হবে। কেবল নীতির পরিবর্তনেই প্রকৃত মুক্তি সম্ভব।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমদ সাকীর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল মোমেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক ও ব্র্যাকের মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ ফারহান বাশার।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মুফতি জাহিদুজ্জামান, যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু, যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাদিম হাসান, ইসলামী যুব সমাদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ খান ও ইসলামী যুব মজলিসের সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাব্বির আহমদ।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, “বিদেশি শক্তিগুলো বাংলাদেশকে নিজেদের প্রভাব বলয়ে রাখতে সক্রিয়, অথচ ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে শাসকগোষ্ঠী বারবার তাদের কাছে নতি স্বীকার করছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “১৯৭২ সালের সংবিধান দেশের সংকটের মূল কারণ। ভারতের স্বার্থরক্ষাকারী এই সংবিধানকে টিকিয়ে রাখতে এখন বিএনপিও মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাই মৌলিক সংস্কার ছাড়া কোনো অর্থবহ নির্বাচন সম্ভব নয়।”

সভাপতির বক্তব্যে আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, “১৯৪৭, ১৯৭১ এবং আগামীর বাংলাদেশ—এই তিন অধ্যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশক। ইসলামি মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত হয়ে তরুণ প্রজন্মকে ন্যায়ের সমাজ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।”