ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে উত্তাল ঢাকা, ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত

45ff481f 94d4 4ac4 9f43 f08c6a13d341 49e4836aab9ff83c2f8328ddb5e65cb5

ইফতেখার হোসাইন,প্রতিবেদক :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং ঢাকা কলেজসহ ছয় কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে ঢাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রোববার রাতের এই সহিংস ঘটনার কারণে সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ঢাবির সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এর পাশাপাশি, চার প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়। বিজিবি-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের মতে, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

popup

রোববার রাত ১০টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায় এবং ঢাবির উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মামুন আহমেদের কার্যালয় ঘেরাও করার চেষ্টা করে। এর প্রতিক্রিয়ায়, ঢাবির বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিহত করতে হলে থেকে বেরিয়ে আসে।

নিলক্ষেত এবং নিউ মার্কেট এলাকায় শিক্ষার্থীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে রোববার বিকেলে, ২৬ জানুয়ারি, যখন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক মামুন আহমেদের কাছে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে একটি পিটিশন জমা দেন।

তাদের দাবির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল:
১. ভর্তি পরীক্ষায় কোটাপদ্ধতি বাতিল,
২. শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ভর্তি সীমাবদ্ধ করা,
৩. ভর্তির সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত বিবেচনা করা।

তাদের দাবিগুলোর প্রতি অধ্যাপক মামুন আহমেদের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এই সংঘর্ষে নিলক্ষেত এবং আশপাশের এলাকাগুলো দীর্ঘ সময় ধরে উত্তপ্ত থাকে। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের সহিংসতার ফলে সাধারণ মানুষও ভোগান্তির শিকার হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘর্ষ শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

/হ্যাভেন টিভি ডট প্রেস