
আমরা প্রায়ই নদী বা পুকুরে ভেসে থাকা মৃতদেহের খবর শুনি, অথচ জীবিত মানুষ পানিতে পড়লে বেশিরভাগ সময়ই ডুবে যায়—এই বৈপরীত্য অনেকের কাছে আশ্চর্যজনক। একই শরীর, একই পানি—তবু জীবিত অবস্থায় ডুবে, মৃত্যুর পর ভেসে ওঠে। এর পেছনে মূলত বৈজ্ঞানিক কারণ লুকিয়ে আছে, যেমন ঘনত্ব ও ভরবেগ, যা নির্ধারণ করে কোনো বস্তু পানিতে ভাসবে নাকি ডুবে যাবে। মানবদেহও এর বাইরে নয়।
জীবিত অবস্থায় মানুষের শরীরের ঘনত্ব সাধারণত জলের তুলনায় সামান্য বেশি। ফলে, যদি কেউ সাঁতার না জানে বা পানিতে নিজের ওজন ও ভর ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে সে ডুবে যায়।
মৃত্যুর পর দেহ কেন ভেসে ওঠে? প্রথম দিকে, কেউ জলে ডুবে মারা গেলে তার ফুসফুস জলে ভর্তি থাকে এবং দেহ পুরোপুরি ডুবে থাকে। তবে কিছু সময়ের পর পচন শুরু হয়। শরীরের কোষ ও টিস্যুগুলো পচনের ফলে ব্যাকটেরিয়ার কার্যকলাপ বিভিন্ন গ্যাস তৈরি করে—যেমন মিথেন, অ্যামোনিয়া, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড। এই গ্যাস দেহকে ফুলিয়ে তোলে এবং ঘনত্ব কমিয়ে দেয়। ঘনত্ব কমে যাওয়ার কারণে দেহ জলের উপরে ভেসে ওঠে।
আর্কিমিডিসের সূত্র অনুযায়ী, কোনো বস্তু যদি নিজের ওজনের সমান পরিমাণ জল সরাতে না পারে, তবে তা ডুবে যায়। কিন্তু যদি পর্যাপ্ত জল সরাতে পারে, তবে তা ভাসে। মৃতদেহ পচনের কারণে ফুলে গেলে আয়তন বৃদ্ধি পায়, ঘনত্ব কমে যায় এবং দেহ জলের উপর ভেসে ওঠে।
সংক্ষেপে, জীবিত ব্যক্তির শরীরের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় সে পানির নিচে ডুবে যায়। মৃত্যুর পর দেহ পচনের ফলে গ্যাস তৈরি হয়, যা দেহকে ফুলিয়ে দেয়, ঘনত্ব কমায় এবং ফলে মৃতদেহ পানিতে ভেসে ওঠে। এটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া, যা ব্যাখ্যা করে কেন মৃতদেহ কয়েকদিন পর জলের উপর ভেসে ওঠে।