পরিচিত কারো হাতে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী প্রাণ হারাচ্ছেন – জাতিসংঘ

image 348

বিশ্বজুড়ে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা থামাতে তেমন অগ্রগতি হয়নি বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। নতুন এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রায় ৫০ হাজার নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ মিনিটে অন্তত একজন নারী তার আপনজনের হাতে প্রাণ হারাচ্ছেন।

নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম বিষয়ক দপ্তর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে নারী হত্যার মোট ঘটনার ৬০ শতাংশই ঘটে নিজ বাড়ির ভেতরে। এসব হত্যাকাণ্ডে স্বামী, প্রেমিক, বাবা, ভাইসহ নিকট আত্মীয়রাই বেশি জড়িত। বিপরীতে, পুরুষ হত্যার মাত্র ১১ শতাংশ ঘটনায় আপনজন দায়ী। ১১৭টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। যদিও ২০২৩ সালের তুলনায় সংখ্যা কিছুটা কম, জাতিসংঘ বলছে—এটি বাস্তবে সহিংসতা কমার প্রমাণ নয়; বরং তথ্য সংগ্রহের ভিন্নতার প্রভাব।

বিশ্বের কোনো অঞ্চলই নারী হত্যার ঘটনা থেকে মুক্ত নয়। ২০২৪ সালে আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি—প্রায় ২২ হাজার নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছে, যা অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেক বেশি।

ইউএন নীতি বিভাগের পরিচালক সারা হেনড্রিক্স বলেন, ফেমিসাইড হঠাৎ ঘটে না; এটি প্রায়ই শুরু হয় নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, হুমকি, হয়রানি বা ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড থেকে—অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ডিপফেক, অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো নতুন সহিংসতার ধরনও বাড়ছে।

জাতিসংঘ বলছে, নারী ও কন্যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনলাইন এবং অফলাইনে সব ধরনের সহিংসতাকে আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি সহিংসতা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠার আগেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

প্রতিবেদনে উপসংহারে বলা হয়, বাড়িই এখন নারী ও কন্যাশিশুর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান। পর্যাপ্ত সচেতনতা, প্রযুক্তিনির্ভর সুরক্ষা ব্যবস্থা ও কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ ছাড়া ফেমিসাইড রোধ করা সম্ভব নয়।