নির্বাচনে ডাব্বা মারার পরও অনুতপ্ত নন—তারেক রহমান

পোস্টাল ভোট: নির্বাচনে নিয়োজিত ও সরকারি চাকরিজীবীরা ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত  নিবন্ধন করতে পারবেন | শিরোনাম | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

আমজনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান জানিয়েছেন, তিনি তার জীবন উপভোগ করছেন আম–মধুর ব্যবসা চালিয়ে। তিনি বলেন, পেশায় তিনি ছিলেন একজন আইটি ব্যবসায়ী, কিন্তু বাবা-মা চেয়েছিলেন তিনি সরকারি চাকরি করুন। সরকারি চাকরির চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি নিজ উদ্যোগে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে যুক্ত হন।

তারেক রহমান জানান, শিক্ষক নিয়োগে ৮৪ শতাংশ কোটা, রেলওয়েতে ৪০ শতাংশ পৌষ্য বা পারিবারিক কোটা এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটা ব্যবস্থা ছিল। এই ব্যাবস্থায় বারবার হতাশ হয়েই তিনি কোটা সংস্কারের উদ্যোগ নেন। যদিও কোটা সংস্কারের লড়াই ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্যে ছিল, কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠী এটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে। তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নারী, প্রতিবন্ধী ও পাহাড়ি অঞ্চলের জনগণের জন্য কিছু অংশ বরাদ্দ রেখেই ১৫ শতাংশ কোটার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

তারেক মন্তব্য করেন, কোটা ব্যবস্থার পুরোপুরি বাতিল হওয়া, বিশেষ করে নারী ও পৌষ্য কোটার হঠাৎ শূন্য করা ন্যায়সংগত হয়নি। তিনি গ্রামাঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার পক্ষেও ছিলেন। ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের পর তিনি নানা পরীক্ষায় যোগ দিয়েও নিয়মবিরোধীভাবে বাদ পড়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকের পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধের চেষ্টা করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক হামলার শিকার হয়েছেন।

সবচেয়ে বড় কারণে চাকরিতে প্রবেশ করতে না পারায় তারেক রহমান শুরু করেন আম–মধুর ব্যবসা। তিনি জানান, পেটের ক্ষুধা মেটাতে বহুবার ব্যর্থ হলেও, ধৈর্য ধরে ব্যবসা চালিয়ে এখন নিজে ও পরিবার উভয়ের জীবন পরিচালনা করতে পারছেন। তিনি বলছেন, ২ দিন আগে নির্বাচনে ‘ডাব্বা মারার’ ঘটনা হলেও তিনি বা তার পরিবার এতে কোনও খারাপ অনুভব করেননি। আল্লাহ তাকে যে জায়গায় উপযুক্ত মনে করেছেন, সেখানে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, সংসদে নাও যেতে পারা তার নিজের সিদ্ধান্ত বা অক্ষমতার ফল নয়। তিনি জানাচ্ছেন, তার এই জীবনই তার জন্য আনন্দদায়ক এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রয়েছে।