মেটার চশমা দিয়ে ছবি তোলাফোন ও কম্পিউটার ব্যবহার

image 389

মেটার রে-ব্যান স্মার্ট চশমা: টনি স্টার্কের মতো ভবিষ্যৎ চোখের সামনে

আপনি কি ‘আয়রন ম্যান’ সিনেমার সেই চশমার কথা মনে করতে পারছেন? যেখানে টনি স্টার্ক চশমার দিকে তাকালেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সব তথ্য। আর সেটা এখন কেবল সিনেমার কল্পনা নয়। মার্ক জাকারবার্গের মেটা এবং রে-ব্যান যৌথভাবে এই প্রযুক্তি বাস্তবে এনেছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মেটার নতুন রে-ব্যান ডিসপ্লে গ্লাস বাজারে এসেছে, দাম ৭৯৯ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯৫ হাজার)। তবে মূল আকর্ষণ চশমার নয়, বরং এর সঙ্গে থাকা ধূসর রঙের নিউরাল রিস্টব্যান্ডে। এই ব্যান্ড হাতের মাংসপেশি থেকে সৃষ্ট বৈদ্যুতিক সংকেত শনাক্ত করে। আপনি হাত বা আঙুল নাড়ালে ব্যান্ড সেটি বুঝে চশমাকে নির্দেশ দেয়।

কিভাবে কাজ করে:

  • মুঠো মেলে এবং আঙুল দিয়ে নির্দিষ্ট অংশ ঘষলেই চশমার স্ক্রিনে মেনু স্ক্রল হয়।
  • দুই আঙুল ঘুরিয়ে মুভ করলে গানের ভলিউম নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • ব্যান্ডের ব্যাটারি এক চার্জে ১৮ ঘণ্টা চলে, জলরোধী এবং চার্জিং কেসে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত চার্জ থাকে।

চশমার বৈশিষ্ট্য:

  • দেখতে সাধারণ চশমার মতো, তবে ডান চোখের কাছে ছোট একটি ডিসপ্লে আছে।
  • চোখের সামনে স্বচ্ছ পর্দায় মেসেজ দেখা, ছবি তোলা আগে প্রিভিউ দেখা, গান প্লে করা সম্ভব।
  • এআই সহকারী চারপাশ বুঝতে পারে, লাইভ সাবটাইটেল দেখায় এবং ভাষা অনুবাদ করে।
  • ক্যামেরা ভিউফাইন্ডার, নেভিগেশন, ভিডিও কল এবং মেসেজ পড়ার সুবিধা।
  • এআই ব্যবহারকারীর অভ্যাস শিখে স্বয়ংক্রিয় সাজেশন দেয়।
  • ক্যামেরা চালু হলে এলইডি বাতি জ্বলে, গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।
image 390

প্রকৃত অভিজ্ঞতা:

  • ব্যবহারকারীরা চশমার পরিষ্কার স্ক্রিন, সহজ নিয়ন্ত্রণ ও এআই ফিচারকে প্রশংসা করেছেন।
  • কিছু ব্যবহারকারীর মতে, প্রথমে চোখ ফোকাস করা কঠিন এবং চশমা সামান্য ভারী।
  • দাম ৭৯৯ ডলার অনেকের পক্ষে ব্যয়বহুল।

উপলব্ধতা:

  • যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি শুরু, স্ট্যান্ডার্ড ও লার্জ আকারে।
  • পাওয়ার লেন্স এবং ট্রানজিশন লেন্সের সুবিধা।
  • ২০২৬ সালের শুরুতে কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি ও যুক্তরাজ্যেও বিক্রি হবে। বাংলাদেশে আসার সময় এখনও অজানা।
image 391

সংক্ষেপে:
হাতের নড়াচড়ায় কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ, চোখের সামনে ভেসে ওঠা তথ্য, কথা বললে লেখা হয়ে যাওয়া — সবকিছু এখন বাস্তব। কিছুদিন আগেও কল্পনায় সীমিত এই প্রযুক্তি এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হতে চলেছে।