
ইফতেখার হোসাইন, প্রতিবেদক :
সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনী শিশুদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত যৌন সহিংসতা চালাচ্ছে, যেখানে এক বছর বয়সী শিশুরাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে কমপক্ষে ২২১টি শিশুধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, পাশাপাশি আরও ৭৭টি শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন শহরে আক্রমণের সময়, পালানোর চেষ্টার সময়, জোরপূর্বক আটকে রেখে বা খাদ্যের বিনিময়ে শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতা চালানো হয়েছে।
সুদানে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সেনাপ্রধানের ক্ষমতার লড়াইয়ে দেশটি প্রায় দুই বছর ধরে যুদ্ধের কবলে আছে। সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর (SAF) প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (RSF) প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেদতি) দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চালিয়ে যাচ্ছেন।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ২৮,৭০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ১.১ কোটির বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা ইনিশিয়েটিভ। ইউনিসেফ জানিয়েছে, বন্দুকধারী পুরুষরা বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে মেয়েদের তুলে দিতে বাধ্য করছে, অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন করা হচ্ছে বা তাদের সামনেই মেয়েদের ধর্ষণ করা হচ্ছে।
শরণার্থী ক্যাম্প এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতিও আশঙ্কাজনক। ইউনিসেফ জানিয়েছে, এসব জায়গায় বিশেষত শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঝুঁকি অনেক বেশি।
ধর্ষণের শিকার এক নারী, যিনি নিজের নাম ওম্নিয়া বলেছেন, ইউনিসেফকে জানান যে তিনি ১৯ দিন ধরে বন্দি ছিলেন। তিনি বলেন, প্রতি রাতেই ছোট ছোট মেয়েদের ধর্ষণের আওয়াজ শুনে তিনি আত্মহত্যার কথা চিন্তা করতেন।
তিনি বলেন, “রাতে নয়টার পর দরজা খোলে, একজন চাবুক হাতে ঢোকে, একটা মেয়েকে নিয়ে যায় অন্য ঘরে। আমি ওদের কান্না ও চিৎকার শুনতে পেতাম। ওরা ওদের ধর্ষণ করত… ওরা তো এখনো ছোট বাচ্চা। ভোরের দিকে ওদের ফিরিয়ে দিত, প্রায় অচেতন অবস্থায়,” বলেন ওম্নিয়া।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, “এই সাক্ষ্যগুলো যে কারও বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার জন্য যথেষ্ট।”

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সহিংসতা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়; সুদানের ৯টি রাজ্যে শিশু ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সুদানের পূর্ব ও উত্তর অংশ SAF-এর নিয়ন্ত্রণে, আর পশ্চিম, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল, যার মধ্যে দারফুর অঞ্চলও রয়েছে, তা RSF-এর দখলে রয়েছে।
/হ্যাভেন টিভি ডট প্রেস