শিবির নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে যে আহ্বান আসিফ নজরুলের

web 1 1

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। বুধবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এ বার্তা প্রকাশ করেন।

তিনি লিখেছেন, ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী ছাত্রশিবিরের নেতাদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও আন্তরিক অভিনন্দন। একই সঙ্গে ফলাফল মেনে নেওয়া সব অংশগ্রহণকারীকেও শুভেচ্ছা জানান।

আসিফ নজরুলের মতে, শিবিরের এই বড় জয় নিয়ে নানা বিশ্লেষণ থাকলেও তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই নির্বাচনের মাধ্যমে ট্যাগ নির্ভর রাজনীতির পরাজয় হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শেখ হাসিনার সময়ে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে অন্যায়ভাবে নির্যাতন ও হয়রানি করা হতো। শিবির সন্দেহে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া ছিল রুটিন ঘটনা। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় প্রতিবাদ করেছেন, নানা হুমকি-আক্রমণ সত্ত্বেও থামেননি।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি এ প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে ‘আমি আবুবকর’ শিরোনামে একটি উপন্যাস লেখেন। বইটি প্রকাশের পরই এক বইমেলাতেই ১১ বার মুদ্রণ করতে হয়েছিল। তখন এর জনপ্রিয়তার কারণ পুরোপুরি বোঝা না গেলেও এখন বিষয়টি পরিষ্কার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিবির নেতাদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার সময় এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। স্মৃতিচারণ করে বলেন, সলিমুল্লাহ হলে জুমার নামাজে যেতে গিয়ে তিনি বারান্দায় ছড়িয়ে থাকা চৌকি, মশারি, ভাঙা আসবাব দেখে বস্তির মতো মনে হতো। ক্যান্টিনের অবস্থা যেন লঙ্গরখানার মতো, আর রুমের ভেতরে উঁকি দেওয়ারও ইচ্ছে জাগত না। তার মতে, ঢাবিতে রয়েছে অসংখ্য সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা।

শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফ্যাসিস্টমুক্ত এই নতুন বাংলাদেশে অন্তত ঢাবির আবাসিক শিক্ষার্থীদের গুরুতর কিছু সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে। তিনি তাদের জন্য দোয়া করেন।