রাজধানীতে পরীক্ষামূলক ট্রাফিক ব্যবস্থা, বাড়ছে দুর্ভোগ

image 66

রাজধানী ঢাকার যানজট কোনো নতুন সমস্যা নয়—এটি দীর্ঘদিনের ভোগান্তি। সড়কব্যবস্থার অস্থিরতা, ট্রাফিক সিগন্যালের বিশৃঙ্খলা ও ম্যানুয়াল পরিচালনায় ত্রুটির কারণে প্রতিদিনই যানজট আরও বেড়ে যাচ্ছে। নানা সময়ে সমাধানের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর ফলাফল মেলেনি, বরং দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যানজট নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত ৩০ আগস্ট ঢাকায় সাতটি মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে অটোমেটেড সিগন্যাল বাতি চালু করা হয়। তবে সড়ক ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, সিগন্যাল বাতি চালু থাকলেও কার্যত যানবাহন এখনো ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারায় চলছে। এতে বরং চালক ও পথচারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

তবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন এ বিষয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, শুরুতে যান্ত্রিক ত্রুটি ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি থাকলেও সেগুলো ধাপে ধাপে সমাধান করা হচ্ছে। সিগন্যাল ব্যবস্থাকে কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) যানজট কমাতে ৬৯টি পয়েন্টে নতুন ডাইভারশন বা গতিপথ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করেছে। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কারও যাতায়াত সময় কিছুটা কমলেও অধিকাংশের ভোগান্তি বেড়েছে। যানবাহন ও মানুষের চাপের কারণে অনেক জায়গায় উল্টো নতুন জট তৈরি হচ্ছে।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, “পুলিশের করা ট্রাফিক ডাইভারশন আসলে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। তবে এর কিছু পূর্বশর্ত আছে। যেখানে যানবাহনের চাপ কম, যেমন পূর্বাচল বা উত্তরা থার্ড ফেজ—সেখানে এটি কার্যকর হতে পারে। কিন্তু ঢাকার ব্যস্ত এলাকায় এসব ডাইভারশন কাজ করার সম্ভাবনা নেই। এ বাস্তবতা পুলিশ যদি বিবেচনায় নিত, তাহলে ডাইভারশনের কারণে জনঅসন্তোষ তৈরি হতো না।”

তার মতে, এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা কেবল জনদুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলা বাড়াচ্ছে, কার্যকর সমাধান নয়।