গুলশানে সাদিয়ার হত্যা চাঞ্চল্যকর তথ্যের মুখে পুলিশ

image 172

গুলশানে ড্যান্সার সাদিয়া রহমান মীমের নৃশংস হত্যা, পুলিশ দিচ্ছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের কালাচাঁদপুরে বার ড্যান্সার সাদিয়া রহমান মীম হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখেই শিউরে উঠেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। পুলিশ মনে করছে, এটি কোনো সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়, বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও চরম আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ।

নিহতের শরীরের উপরিভাগে ২০টিরও বেশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটি প্রমাণ করছে, ঘাতক চরম নির্যাতন চালিয়ে মীমের মৃত্যু নিশ্চিত করতে চেয়েছে।

ঘটনার দুদিন পেরিয়ে গেলেও মূল ঘাতক এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে রহস্য উদঘাটনের জন্য নিহতের রুমমেটসহ ছয়জনকে হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নাভি থেকে মুখমণ্ডল পর্যন্ত অন্তত ২০টি গভীর ক্ষত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘরে থাকা সাধারণ ফল কাটার চাকু দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, খুনি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংসতা চালিয়েছে।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, “হত্যার ধরন দেখে মনে হচ্ছে মীম পরিচিত কারো চরম আক্রোশের শিকার হয়েছেন। আমরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছি এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত।”

পুলিশ নিহতের রুমমেট নুসরাত, নুসরাতের বন্ধু লিজা, রাব্বিমুরাদসহ আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

নিহত মীমের বড় বোন শাহিদা আক্তার গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তিনি কান্নায় ভেঙে বলেন, “আমার বোনের সঙ্গে কারো শত্রুতা ছিল বলে কখনও শুনিনি। কারা কীসের জন্য তাকে এত নৃশংসভাবে হত্যা করলো, আমি তার বিচার চাই।”

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পেশাগত দ্বন্দ্ব, প্রেমঘটিত জটিলতা বা পরিচিত কারোর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হতে পারে। বাসার ভেতরে ঢুকে নৃশংস হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া কোনো আগন্তুকের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই খুনির পরিচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে মীমের গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি।