
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তার মতে, হামাস ধ্বংস না হলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি সম্ভব নয়।
লন্ডনের দক্ষিণাঞ্চলে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির ব্যক্তিগত বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আসলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়, সেটাই আমার কাছে অস্পষ্ট—ওখানে তো কার্যকর কোনো সরকার নেই।”
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে যুক্তরাজ্য যদি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়—এমন সম্ভাবনা নিয়ে ভ্যান্স বলেন, “এটি যুক্তরাজ্যের নিজস্ব বিষয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিষ্কার—আমাদের দুটি মূল লক্ষ্য আছে: প্রথমত, হামাস যাতে আর কখনো ইসরাইলি নাগরিকদের ওপর হামলা চালাতে না পারে, এজন্য সংগঠনটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করা দরকার। দ্বিতীয়ত, গাজার ভয়াবহ মানবিক সংকট নিয়ে প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) উদ্বিগ্ন, এবং আমরা চাই এ সংকট দ্রুত সমাধান হোক।”
এর আগে, ২৪ জুলাই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দেন যে, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফ্রান্স ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। এরপর ২৯ জুলাই যুক্তরাজ্যও জানায়, ইসরাইল যদি গাজায় মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করে এবং সামরিক অভিযান বন্ধ না করে, তাহলে তারা সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে অভূতপূর্ব হামলা চালায়, যাতে ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হয়ে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। জবাবে ইসরাইল টানা সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ১৮ মার্চ পুনরায় গাজায় হামলা শুরু হয়। বর্তমানে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্ন আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন অগ্রাধিকার হামাস নির্মূল।