
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিএনপি এখন নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। জানা গেছে, আগামী অক্টোবরের মধ্যেই অধিকাংশ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি।
দলীয় সূত্র বলছে, মনোনয়ন বাছাইয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সক্রিয়, ত্যাগী, সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, এলাকায় জনপ্রিয় ও ক্লিন ইমেজধারী নেতাদের। পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও কিছু আসন ছাড়ার নীতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। এ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি জোট গঠনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা আসন বণ্টন ও প্রার্থী তালিকা প্রণয়নে কাজ করছেন। হাইকমান্ডের হাতে এখন একাধিক জরিপের তথ্য রয়েছে। সাংগঠনিক টিম ও জরিপের সমন্বিত তালিকা থেকেই প্রার্থী চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে।
৩শ আসনের মধ্যে অন্তত দেড়শ’ আসনে প্রার্থিতা নিয়ে কোনো জটিলতা নেই বলে মনে করছে বিএনপি। এসব আসনে প্রার্থীরা প্রায় নির্ধারিত। বাকি আসনগুলো নিয়েই মূলত আলোচনা চলছে, যার মধ্যে কিছু আসন মিত্রদের জন্য ছাড়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।
তবে ঠিক কত আসন মিত্রদের দেওয়া হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রক্রিয়া শেষ করেই বিএনপি একক প্রার্থী ঘোষণা করবে। আর মিত্রদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠকে বসবেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মিত্রদের আসন বণ্টনে তাদের যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর শক্তি বিবেচনায় রাখা হবে। একইসঙ্গে ওইসব আসনে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মিত্রদের হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। যাদের মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হবে না, তাদের অন্যভাবে মূল্যায়ন বা সম্মানিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বিএনপি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার আগেই অন্তত ৭০ শতাংশ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে।