
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদীর ওপর হামলাকে গণতান্ত্রিক অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনে হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওসমান হাদীকে দেখতে যাওয়ার সময় যারা মব সৃষ্টি করেছিল, তারা হাদির মৃত্যু কামনা করছিল। তার ভাষায়, এই হামলা ছিল পরিকল্পিত। তিনি দাবি করেন, হাদির ওপর হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই একটি বাড়ির ইট খোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যা থেকে স্পষ্ট—হাদিকে হত্যা করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
হাদিকে নিজের সমতুল্য প্রার্থী উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাদির ওপর হামলায় তিনি মানসিকভাবে গভীরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। হামলার পর হাসপাতালে গেলে সেখানে আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হামলাকারীদের পরিচয় প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, হাসপাতালে যারা মব তৈরি করেছিল, তারা হাদির সমর্থক নয়; তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের লোক, যারা বরাবরই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্দেশনা পেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের উপযুক্ত জবাব দিতে পারত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুসলমানের লেবাসধারী কিছু লোকও হাদির মৃত্যু কামনা করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশের চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের পর মানুষ কথা বলার স্বাধীনতা পেয়েছে, তাই এই সময়ে সাহসী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রয়োজন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।