লাশ আটকে রেখে সুদের টাকা আদায়, ক্ষোভে ফুঁসছে দামুড়হুদা

image 148

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা গ্রামে ঘটেছে এক চরম হৃদয়বিদারক ঘটনা। মৃতদেহ আটকে রেখে আদায় করা হয়েছে সুদের টাকা। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

গ্রামের নতুনপাড়ার রাজমিস্ত্রি হারুন (৪৫) শনিবার মেয়ের বাড়ি মেহেরপুরের মহাজনপুরে বেড়াতে গিয়ে রোববার সকালে হঠাৎ স্ট্রোকে মারা যান। লাশ নিজ গ্রামে আনার পর আছরের নামাজ শেষে দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় প্রতিবেশী প্রয়াত মোহন আলীর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন দাবি করেন, হারুন তার কাছে সুদের ১৫ হাজার টাকা পাওনা রেখেছেন। টাকা পরিশোধ না করলে লাশ দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন তিনি।

এতে শোকাহত পরিবার লাশের পাশে দাঁড়িয়ে টাকার জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা টানাপোড়েনের পর অবশেষে পরিবার ১৫ হাজার টাকা জোগাড় করে খাটিয়ার ওপর রাখে। টাকা হাতে নিয়েই মর্জিনা স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পালিয়ে যান।

হারুনের চাচাতো ভাই মতিনুর ইসলাম মানিক জানান, দেড় মাস আগে হারুন মর্জিনার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেটি ব্যবসায় কাজে লাগালেও সুদের অঙ্ক বাড়তে বাড়তে ২২ হাজারে পৌঁছায়। পরিবার অনুরোধ করে দাফনের পর সমাধান করার কথা জানালেও মর্জিনা তাতে রাজি হননি। পরে বাধ্য হয়ে ১৫ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মর্জিনা দীর্ঘদিন ধরে সুদের ব্যবসা করে আসছেন। প্রতিবাদ করলে তিনি নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখান, এজন্য অনেকে মুখ খুলতে সাহস পান না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান বলেন, জীবিত অবস্থায় মূল টাকা শোধ করলেও মৃত্যুর পর মরদেহ আটকে রেখে সুদের টাকা আদায় করা ন্যাক্কারজনক ও লজ্জাজনক কাজ।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি হুমায়ুন কবীর জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তার জানা নেই। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।