
সজীব ওয়াজেদ জয় গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের ফলাফলকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি সত্ত্বেও “প্রহসন” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় দল এবং সকল প্রগতিশীল দলকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। নির্বাচনের এমন বিন্যাসে সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী সংসদে তাদের জনসমর্থনের তুলনায় বেশি প্রভাব পাচ্ছে। জয়ের মন্তব্য, দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের একটি নিষিদ্ধ থাকায় এই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য বলা যায় না। তিনি যুক্তরাজ্যের উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি টরি বা লিবারেলদের মধ্যে কোনো একটি দল নিষিদ্ধ হতো, তখন পরিস্থিতি একইরকম হতো। তাই এটি কখনোই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বলা যায় না।
জয় আরও জানান, আওয়ামী লীগের শাসনামলে জামায়াতকে সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়নি; তারা আদালতের রায়ের কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। গঠনতন্ত্র সংশোধন করলে জামায়াত আবারও নির্বাচনে অংশ নিতে পারত। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলের তিনটি নির্বাচনে কারচুপির ব্যাপক অভিযোগ ছিল”– কিন্তু এই মন্তব্য পুরোপুরি সঠিক নয়, কারণ প্রথম ও তৃতীয় নির্বাচনে বিরোধী দল অংশগ্রহণ করেনি।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বা বিদেশি সাংবাদিকরা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার কথা বললেও জয় তা মেনে নেবেন না। তার ব্যাখ্যা, দেশে যে অল্পসংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন, তারা সরকারের তত্ত্বাবধানে চলেছেন, এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে পর্যবেক্ষণ কার্যকরভাবে সম্ভব হয়নি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা সম্পর্কে জয় বলেন, “নিশ্চয়ই একদিন তিনি ফিরবেন, তবে বর্তমানে দেশে ফেরা নিরাপদ নয়।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বর্তমান পরিস্থিতি চিরস্থায়ী নয়, এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ আসতে পারে।