যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে গাজায় আঘাত ইসরাইলের

image 451

রোববার গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ফের হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। তবে হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় মার্কিন মধ্যস্থতায় গড়ে ওঠা সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা ম্লান হয়ে গেছে। কারণ ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলার দোষারোপ করেছে।

একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা রোববার জানান, হামাস গাজার অভ্যন্তরে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রকেট চালিত গ্রেনেড হামলা এবং ইসরায়েলি সৈন্যদের লক্ষ্য করে স্নাইপার আক্রমণ। এসব হামলা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সংঘটিত হয়েছে এবং এটি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইজ্জত আল রিশেক বলেন, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী যুদ্ধবিরতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন। তবে আল রিশেক বা ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা কেউই গাজায় ইসরায়েলের হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।

শনিবার গাজার সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ইসরায়েল ৪৭ বার লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে ৩৮ জন নিহত ও ১৪৩ জন আহত হয়েছেন।

১১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর রোববারের হামলার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইসরায়েলি সরকার ও হামাস কয়েকদিন ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।

এছাড়া ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজা ও মিশরের মধ্যে রাফা সীমান্ত ক্রসিং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ২০২৪ সালের মে মাস থেকে রাফা সীমান্ত মূলত বন্ধ রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইপিসি গ্লোবাল হাঙ্গার মনিটর অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপত্যকায় মানবিক সাহায্য বৃদ্ধিও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে আগস্টে লক্ষ লক্ষ মানুষ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে ছিল।