হাসিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দিচ্ছেন মাহমুদুর রহমান

image 82

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি ট্রাইব্যুনালে পৌঁছান। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তার অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সাক্ষ্য শেষে শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন তাকে জেরা করবেন। এরপর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্য নেওয়া হবে।

এর আগে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা ২০ মিনিট থেকে বিকেল পর্যন্ত ১৫তম দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ চলে। ওই দিন ৪৬তম সাক্ষী হিসেবে মাহমুদুর রহমানের আংশিক জবানবন্দি রেকর্ড হওয়ায় তা আজ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ১৪তম দিনের শুনানিতে ছয়জন সাক্ষ্য দেন। এ পর্যন্ত মোট ৪৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছে ট্রাইব্যুনাল। ৮ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য দেন আরও তিনজন।

গত ২ সেপ্টেম্বর আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ৩৬তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। শেখ হাসিনা ও কামালের নির্দেশে জুলাই-আগস্টে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে জানিয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চান এবং নতুন অনেক তথ্য উন্মোচন করেন। তার জেরা শেষ হয় ৪ সেপ্টেম্বর।

সাক্ষীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, গত বছরের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। এ ঘটনায় শেখ হাসিনা, কামালসহ সংশ্লিষ্টদের দোষী সাব্যস্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও শহীদ পরিবার।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই এ মামলায় শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনেছে তাদের বিরুদ্ধে।

৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে তথ্যসূত্র রয়েছে ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দ তালিকা ও অন্যান্য দালিলিক প্রমাণ ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। এ মামলায় সাক্ষী হিসেবে আছেন মোট ৮১ জন। গত ১২ মে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দেয় চিফ প্রসিকিউটরের কাছে।