গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে পৌঁছেছে: কাতারের প্রধানমন্ত্রী

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখন ‘গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে’ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি।

image 78

তিনি বলেন, বর্তমানে যে অবস্থা চলছে, সেটিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি বলা যাবে না; এটি কেবল একটি বিরতি মাত্র। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দোহা ফোরামে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে যখন ইসরায়েলি সেনারা পুরোপুরি গাজা ছাড়বে, এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে। তবে বাস্তবে এখনো সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। খবর রয়টার্সের।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাস-ইসরায়েল সংঘর্ষের পর কাতারসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সহিংসতা কিছুটা কমলেও ইসরায়েলি হামলা থামেনি। শনিবারও গাজার কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন।

এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। ইসরায়েলি প্রতিনিধি দল কায়রোতে গিয়ে শেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত আনার বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর হামাস প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে ২০ জন জীবিত জিম্মি এবং ২৭ জন মরদেহ ফিরিয়ে দিয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, শেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত পাওয়ার পর রাফা ক্রসিং দিয়ে গাজার যাতায়াত খুলে দেওয়া হবে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজায় একটি অন্তর্বর্তী টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি পর্ষদের তত্ত্বাবধান করার কথা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গঠন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল বলেছে, তারা হামাসকে লক্ষ্য করেই অভিযান চালাচ্ছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার উত্তর গাজার কয়েকটি এলাকায় হামলায় ৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৭০ বছর বয়সী এক নারীও রয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ‘ইয়োলো লাইন’ অতিক্রমের সময় দুই ঘটনায় তিনজন ফিলিস্তিনি জঙ্গি নিহত হয়েছে, তবে ড্রোন হামলার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে।