
৭ অক্টোবরের হামলার সময় অপহৃত ইসরায়েলি জিম্মিদের মৃতদেহ উদ্ধারে মিসর ও আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি)-এর দলগুলোকে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৬ অক্টোবর) ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামাস সদস্যরাও আইসিআরসি’র সঙ্গে যৌথভাবে অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নিতে পারবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এই দলগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) নিয়ন্ত্রিত গাজা অঞ্চলে, বিশেষ করে তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরে কাজ করবে।
ইসরায়েলি মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, মিসরীয় দলগুলোকে মৃতদেহ শনাক্তে আইসিআরসি’র সঙ্গে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অভিযানে এক্সকাভেটর ও ট্রাকসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগও থাকবে।
‘ইয়েলো লাইন’ হচ্ছে গাজার উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব অংশজুড়ে বিস্তৃত সেই সীমারেখা—যেখান থেকে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের অংশ হিসেবে সেনা প্রত্যাহার করেছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় হামাস ২৮ জন নিহত জিম্মির মধ্যে ১৫ জনের মরদেহ ফেরত দিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বাকি মরদেহগুলো ফেরত দিতে মিসরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, হামাসকে দ্রুত সব মৃতদেহ হস্তান্তর করতে হবে, “না হলে শান্তি প্রক্রিয়ায় জড়িত অন্য দেশগুলো ব্যবস্থা নেবে।”
ট্রাম্প-মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তিতে মিসর, কাতার ও তুরস্ক অংশ নিয়েছে। ওই চুক্তি চলতি মাসের শুরুতে মিসরের শার্ম আল-শেখে স্বাক্ষরিত হয়।
আইসিআরসি এর আগেও জিম্মি বিনিময় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কারণ হামাস সাধারণত জিম্মিদের (জীবিত বা মৃত) সরাসরি আইডিএফের কাছে নয়, রেড ক্রসের মাধ্যমে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে আইসিআরসি সেই জিম্মিদের ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে তুলে দেয়।
গাজায় এবারই প্রথমবারের মতো মিসরীয় অনুসন্ধান দল সরাসরি প্রবেশের অনুমতি পেল। জাতিসংঘের হিসাবে, ইসরায়েলের টানা দুই বছরের বিমান ও স্থল অভিযানে গাজার প্রায় ৮৪ শতাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু তারা মিসরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সর্বোচ্চ সমন্বয় করছে।
তবে ইসরায়েলি এক সরকারি মুখপাত্র দাবি করেছেন, “হামাস জানে মৃতদেহগুলো কোথায় আছে। তারা চাইলে সহজেই সেগুলো উদ্ধার করতে পারত।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীগুলোর হামলায় প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হয় এবং আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় অন্তত ৬৮ হাজার ৫০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছে গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।