
বিগত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটে গেল সবচেয়ে বড় ভুমিকম্প। বিশেষত ঢাকা শহর কেঁপে উঠেছিলো। মনে হচ্ছিল, সব এই ভেঙ্গে পড়বে। ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ: কুরআন-হাদিসের আলোকে সংক্ষিপ্ত বার্তা
কুরআন ও হাদিস থেকে জানা যায়, অতীতে বিভিন্ন জাতিকে তাদের পাপ ও অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তাআলা ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক শাস্তির মাধ্যমে সতর্ক করেছেন। সামূদ জাতি, লূত (আ.)-এর কওম, বনি ইসরাইলের এক দল এবং কারূন—এরা সবাই আল্লাহর শাস্তির নিদর্শন।
হাদিসে এসেছে, যখন সমাজে ব্যভিচার, মদ্যপান, গান-বাজনা ও প্রকাশ্য গুনাহ ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহ তাআলা বান্দাদের সতর্ক করার জন্য জমিনকে কাঁপিয়ে দেন। উদ্দেশ্য হলো মানুষকে তাওবার দিকে ফিরিয়ে আনা।
হযরত উমর (রা.)-এর যুগে ভূমিকম্প হলে তিনি বলেছিলেন, এটি মানুষের নতুন গুনাহের ফল। বহু আলেমের বক্তব্য অনুযায়ী, ভূমিকম্প মূলত পাপের পরিণতি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, কিছু নির্দিষ্ট গুনাহ সমাজে ব্যাপক হলে ভূমিকম্প, ধস ও অন্যান্য বিপর্যয় নেমে আসে। তাই এসব বিপদ থেকে বাঁচার উপায় হলো—খাঁটি তাওবা, বেশি বেশি দুআ, নফল নামাজ ও সদকা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ হোক বা ব্যক্তিগত বিপদ—সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটে। মুমিনের বিশ্বাস, ভালো-মন্দ সবই তাকদীরের অংশ। এসব বিপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা, সতর্কতা ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে গুনাহ থেকে ফিরে এসে তাওবা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।