ঢাবির তদন্তে আস্থা রাখার সুযোগ নেই, তারা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে : জাহেদ উর রহমান

image 199

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান বলেছেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখার আর কোনো সুযোগ নেই, কারণ এই প্রশাসন তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।”

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “আমি চাই, শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিক এবং একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করুক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবারও কিছু জামায়াতপন্থী ব্যক্তিকে বসাবে, যারা তদন্ত করে বলবে সব ঠিক আছে—এটা আমি মানতে পারছি না। একটি বহিরাগত ও স্বাধীন তদন্ত হওয়া উচিত। প্রয়োজনে এ নিয়ে মামলা করা হোক, যাতে আদালত একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে দিয়ে তদন্তের ব্যবস্থা করতে পারে।”

ডা. জাহেদ আরও বলেন, “আমার মনে হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ছাত্রশিবিরের পক্ষ হয়ে কাজ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের হয়ে কাজ করার অভিযোগ আগে থেকেই প্রবলভাবে রয়েছে। এখন যেসব ঘটনা ঘটছে, তার প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্ন আরও জোরালোভাবে উত্থাপন করতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই নির্বাচনকে ঘিরে নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে বড় ধরনের সমীকরণ হিসেবে দাঁড় করাতে চাইছে। যদিও আমি তা মনে করি না, তবে এটাও সত্য যে জামায়াতে ইসলামী তাদের জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে ডাকসুকে ব্যবহার করছে। সুতরাং এই নির্বাচন সঠিকভাবে হয়েছে কি না, কারচুপি হয়েছে কি না—এখন এর গুরুত্ব শুধু ডাকসুতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং জাতীয় নির্বাচনের কৌশলের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি না যে ব্যালট ছাপানোর ক্ষমতা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছিল। এর পেছনেও কারসাজি থাকতে পারে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী যেভাবে ডাকসুকে তাদের ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই প্রেক্ষাপটে একটি নিরপেক্ষ ও গুরুত্বসহকারে তদন্ত এখন অত্যন্ত জরুরি।”