
কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন ও তার মা তাহমিনা বেগম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, জিন তাড়ানোর নামে ডেকে আনা কবিরাজ মোবারক হোসেনই মা-মেয়েকে হত্যা করেছেন। সুমাইয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা করার সময় বিষয়টি দেখে ফেলায় প্রথমে তাহমিনা বেগমকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়, পরে সুমাইয়াকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকা থেকে মোবারক হোসেনকে (২৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে এবং বাবুস সালাম জামে মসজিদের খাদেম। পাশাপাশি কবিরাজি কাজও করতেন। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, নিহত তাহমিনা বেগম মাঝেমধ্যে ঝাড়ফুঁকের জন্য বাবুস সালাম জামে মসজিদের খতিব ইলিয়াস হুজুরের কাছে যেতেন। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয় খাদেম মোবারকের। এক মাস ধরে তাহমিনার বাসায় যাতায়াত ছিল তার। ৭ সেপ্টেম্বর তাহমিনা বেগম মেয়ের জিন তাড়াতে মোবারককে ডাকেন। সুমাইয়ার কক্ষে প্রবেশ করে সে ধর্ষণের চেষ্টা করলে বিষয়টি টের পান তাহমিনা। মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে প্রথমে তাকে হত্যা করে মোবারক, পরে সুমাইয়াকেও শ্বাসরোধ করে খুন করে। এরপর ঘর থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে নামে। পাশের একটি স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মূল ঘাতক হিসেবে মোবারককে শনাক্ত করা হয়। সোমবার রাতে ঢাকাগামী ট্রেনে পালানোর প্রস্তুতিকালে বাগিচাগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে হত্যাকাণ্ডটি মোবারক একাই ঘটিয়েছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে, অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, র্যাবের হাতে আটক আব্দুর রবের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সাইফুল মালিক, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম, জেলা ডিবির ওসি মো. আব্দুল্লাহ, তদন্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে সোমবার ভোরে নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন—সুজানগরের মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা বেগম এবং তার মেয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন। এ ঘটনায় নিহত তাহমিনার বড় ছেলে তাজুল ইসলাম ফয়সাল বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে ঘাতক গ্রেপ্তার ও হত্যার রহস্য উন্মোচনের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তারা অবরোধ তুলে নেয়।