
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সংঘর্ষ চলাকালে ইটের আঘাতে তিনি আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় সাংবাদিকদের সামনে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি অভিযোগ করেন, “নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের দা দিয়ে কোপাচ্ছে।”
অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আরও বলেন, “আমি নিজ চোখে দেখেছি—ছাত্রলীগের সদস্যরা নিরীহ শিক্ষার্থীদের দা দিয়ে আক্রমণ করছে, রক্ত ঝরছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতি সহ্য করা কঠিন।” কথা বলতে বলতে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তিনি অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অস্ত্রধারী কর্মীরা স্থানীয়দের সঙ্গে মিলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। অথচ ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ, সেনাবাহিনী বা বিজিবি দেখা যায়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষ দা দিয়ে কোপাচ্ছে, হাসপাতালে জায়গা নেই, শিক্ষার্থীরা মারা যাচ্ছে, অথচ সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এটা কি কোনো দেশের অবস্থা?”
এসময় তিনি গ্রামবাসীর প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় হামলাকারীরা শুধু ইটপাটকেলই নয়, দেশীয় অস্ত্রও ব্যবহার করেছে। এতে বহু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সাঈদ বলেন, “আমাদের বন্ধুদের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে নিরাপদ থাকব?”
এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।