
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় চার সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ—বিএনপির স্থানীয় এক নেতার নেতৃত্বে হামলাকারীরা তাঁদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনা ও আহতরা
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হরিরামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ‘চোরের মোড়’ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হয়েছেন ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মতিউর রহমান, দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ, দৈনিক সকালের সময়ের প্রতিনিধি এস এম মাসুদ রানা এবং দৈনিক নয়া শতাব্দীর প্রতিনিধি রাকিবুল হাসান।
তাঁদের মধ্যে মতিউর রহমান ও এস এম মাসুদ রানাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে মতিউর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
হামলার বিবরণ
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের তথ্যমতে, জমির মালিকানা নিয়ে তিন পক্ষের বিরোধের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলার শিকার হন। এসময় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছোরহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল দা-লাঠিসহ হামলা চালায়। হামলায় মতিউর রহমানের বাঁ পা ভেঙে যায়। আবদুল্লাহ আল ফাহাদের ক্যামেরা ও মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়।
আহত আবদুল্লাহ জানান, ছোরহাব উদ্দিন বিরোধের এক পক্ষের হয়ে কাজ করছিলেন, আর সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যাওয়ায় তাঁর স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটতে পারে মনে করে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়।
গ্রেপ্তার ও মামলা
এ ঘটনায় মতিউর রহমান বাদী হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ত্রিশাল থানায় মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ গোলাম মোস্তফা রুবেল জানান, ঘটনাস্থল থেকেই ছোরহাব উদ্দিন ও যুবদল কর্মী হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয় এবং মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।