বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

image 215

দ্রুত ফ্যাসিবাদমুক্ত নির্বাচন, নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ইসলামী শিক্ষানীতির দাবিতে প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে মুসলিম জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন ‘বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ’

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দোয়া পরিচালনা করেন মসজিদের সিনিয়র খতিব নাজির মাহমুদ।

মাহফিলে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ। তিনি বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৭৫৭ সালে মুসলিম জনপদ বাংলাদেশ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক দখলে গেলে দীর্ঘ ১৯০ বছর শোষণ-নিপীড়নের শিকার হয় এ অঞ্চলের মানুষ। তিনি দাবি করেন, ব্রিটিশদের সহযোগিতায় স্থানীয় সাম্প্রদায়িক শক্তি মুসলমানদের জমি, জীবন ও সম্মান কেড়ে নেয়।

ওয়াহেদ বলেন, ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও কায়েদে আজম জিন্নাহর মৃত্যুর পর দেশটি স্বৈরতন্ত্র ও দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এর পরিণতিতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বিভক্ত হয়। এরপর ভারতীয় হস্তক্ষেপে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে আশ্রয়-আশ্রিত করে ভারত বারবার বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসন চাপিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনা দুঃশাসন চালান, যার মধ্যে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, ভোটাধিকার হরণ এবং সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পতন ও ভারতে পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালের মানচিত্রের ওপর ভারতীয় প্রভাবের অবসান ঘটে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য দ্রুত ফ্যাসিবাদমুক্ত নির্বাচন, নতুন সংবিধান এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ইসলামী শিক্ষানীতি জরুরি।”

মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব মুহিব মুশফিক খান, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া শাখার আহ্বায়ক রাকিব মন্ডল, সদস্য সচিব মো. জিনাত হোসেন, সিনিয়র সহকারী সদস্য সচিব শরীফ খানসহ আরও অনেকে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাহাত্তরের সংবিধানের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করলে ফ্যাসিবাদবিরোধী নাগরিকরা নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের ডাক দেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে জুলাই বিপ্লবে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী মুসলিম জাতীয়তাবাদী আদর্শে ‘বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ’ গঠন করেন। ২৯ সেপ্টেম্বর রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে।

এরপর থেকে সংগঠনটি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি, বিএনপি-জামায়াতের আঁতাতের বিরোধিতা, ভারতীয় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রচারণা এবং ইসলামী শরীয়াভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে একাধিক কর্মসূচি পালন করে আসছে।

প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যে তারা টানা ৩৬ দিনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আওয়ামী লীগকে সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি এবং বাংলাদেশের পাসপোর্টে ইসরায়েলবিরোধী নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আন্দোলনে সাফল্য অর্জন করেছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।