
ইকুয়েডরের পুলিশ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) জানায়, দেশটিতে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মধ্যে একটি হামলায় স্থানীয় ক্লাব বার্সেলোনা দে গুয়ায়াকিলের ৩৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার মারিও পিনেইদা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন নিহত হন, যদিও তার পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। এছাড়া একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ইকুয়েডরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্তারিত তথ্য না দিলেও পিনেইদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ক্লাব বার্সেলোনা দে গুয়ায়াকিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রিয় খেলোয়াড়ের মৃত্যুতে সমর্থকরা গভীর শোকে মর্মাহত।
পিনেইদা ২০১০ সালে ইন্ডিপেনদিয়েন্তে দেল ভায়ের হয়ে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং ২০১৫ সাল পর্যন্ত ক্লাবটিতে খেলেন। পরে ২০১৬ সালে উপকূলীয় শহর গুয়ায়াকিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বার্সেলোনায় যোগ দেন। সেখানে তিনি দুটি লিগ শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন। ২০২২ সালে স্বল্প সময়ের জন্য ব্রাজিলের ফ্লুমিনেন্সের হয়েও খেলেছিলেন তিনি।
ইকুয়েডরীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, হামলার ঘটনাটি গুয়ায়াকিল শহরের উত্তরাঞ্চলের সামানেস এলাকায় ঘটে। গুয়ায়াকিল রাজধানী কুইটো থেকে প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। ইকুয়েডরীয় অবজারভেটরি অব অর্গানাইজড ক্রাইম জানিয়েছে, চলতি বছরে দেশটিতে সহিংসতা রেকর্ড ছাড়াতে পারে এবং হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত বছর ইকুয়েডরে সহিংস মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৬৩, আর ২০২৩ সালে তা ছিল রেকর্ড ৮ হাজার ২৪৮।
আন্তর্জাতিক মাদক কার্টেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া।
এর আগেও গুয়ায়াকিলে ফুটবল সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত নভেম্বরে ইন্ডিপেনদিয়েন্তে দেল ভায়ের ১৬ বছর বয়সী এক ফুটবলার অজ্ঞাত গুলিতে নিহত হন। তার দুই মাস আগে এক্সাপ্রোমো কোস্তার খেলোয়াড় মাইকোল ভ্যালেন্সিয়া ও লেয়ান্দ্রো ইয়েপেজ এবং ২২ দে জুনিওরের খেলোয়াড় জোনাথন গনসালেসও গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।