আ.লীগের নেতারা ভারত থেকে রাজনীতিতে ফেরার পরিকল্পনা করছেন

image 68

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা দলের রাজনীতিতে ফেরার পরিকল্পনা করছেন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের রাজধানী দিল্লির এক সুরক্ষিত ও গোপন আস্তানায় অবস্থান করছেন। তিনি দিনের বড় একটা সময় বাংলাদেশে থাকা দলের কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে ফোনালাপ এবং বৈঠকে ব্যস্ত থাকছেন এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক “সংগ্রামের” জন্য দলকে প্রস্তুত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অনেকেই বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন। শেখ হাসিনা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নতুন কৌশল ও পরিকল্পনা তৈরি করছেন। দলীয় কৌশল নির্ধারণের জন্য সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার নেতাদের কলকাতা থেকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হচ্ছে।

নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, “আমাদের নেত্রী বাংলাদেশের কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং ভবিষ্যতের সংগ্রামের জন্য দলকে প্রস্তুত করছেন। তিনি আশাবাদী এবং আমরা বিশ্বাস করি, তিনি দেশে ফিরে বীরের মতো নেতৃত্ব দেবেন।”

শেখ হাসিনার সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক জানান, দলের কর্মীদের ভোট কেন্দ্র সম্পর্কিত কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে এবং নির্বাচনে অংশ না নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে দেশে ফেরার বিষয়ে সাবেক নেতারা এখনো ভাবছেন না। তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলা ও ফৌজদারি মামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় বলেন, “ভারতে এই নির্বাসন দীর্ঘস্থায়ী হবে না, শেষমেশ দেশে ফিরতে হবে—যদিও হয়তো কারাগারের মুখোমুখি হতে হবে।”

উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আওয়ামী দলের শাসনবিরতি ঘটে। তখন বাধ্য হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ ও তার ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। যদিও দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডে অনুতপ্ত নয়।