
আফ্রিকার দেশ সুদানের দারফুর অঞ্চলে প্যারামিলিটারি বাহিনী আরএসএফের হাতে ভয়াবহ গণহত্যা চালানো হয়েছে। এল-ফাশার শহরে সবচেয়ে ভয়াবহ নিপীড়ন হয়েছে; শহর দখলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। এই গণহত্যার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা জানিয়েছিলেন, আরএসএফকে ভারী অস্ত্র এবং সামরিক যান সরবরাহ করছে আমিরাত।
ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা ব্যুরো উভয়ই নিশ্চিত করেছে যে, আমিরাত সুদানের আরএসএফকে অস্ত্র সরবরাহ বাড়িয়েছে। সরবরাহকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক চীনা ড্রোন, ছোট হাতিয়ার, ভারী মেশিনগান, কামান, গোলা এবং গোলাবারুদ।
মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, এই অস্ত্র সরবরাহ পুরোপুরি প্রকাশ্যভাবে হচ্ছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তাদের এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে আমিরাতের সুদানে জড়িত থাকার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছিল। অস্ত্রগুলো লিবিয়া, চাদ, উগান্ডা ও সোমালিয়ার মাধ্যমে সুদানে পৌঁছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও মে মাসে খুঁজে পায় যে, চীনের তৈরি জিবি৫০এ-গাইডেড বোমা এবং ১৫৫ মিলিমিটারের এএইচ-৪ কামানসহ অস্ত্র পাঠানো হচ্ছে।
আরএসএফের ফাইটাররা এল-ফাশারে ঢুকে গণহত্যা শুরু করে এবং তাদের কার্যকলাপ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে। মার্চে সুদানের সেনাবাহিনী রাজধানী খারতুমের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় পেতে সক্ষম হওয়ার পর আমিরাত আরও বেশি অস্ত্র সরবরাহ শুরু করে।
এছাড়া আরএসএফ প্রধান মোহামেদ হামদান দাগালো আমিরাতের দুবাইয়ে বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, যার মাধ্যমে দারফুরের খনি থেকে উত্তোলিত সোনা চোরাচালান করা হয়, এবং এই সম্পদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন আরএসএফের সেনারা।
সূত্র: মিডেল ইস্ট আই, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল