নির্বাচনে আমিনুলের পরাজয়, বিস্ময়ে খেলাধুলার অঙ্গন

নির্বাচনে আমিনুলের হারে ক্রীড়াঙ্গন বিস্মিত!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্রীড়াঙ্গনের অনেক পরিচিত মুখ ভোটের লড়াইয়ে অংশ নেন। তবে সবার নজর ছিল জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকের দিকে। ক্রীড়াজগতের আরও কয়েকজন প্রার্থী জয়ী হলেও আমিনুলের পরাজয় ক্রীড়াঙ্গনে বিস্ময় তৈরি করেছে।

আমিনুলের দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য্য তার পরাজয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে যেমন তার পরিচিতি ছিল, তেমনি রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও তিনি ত্যাগী ছিলেন। এরপরও তার হার মেনে নেওয়া কঠিন।

সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও মোহামেডানের ফুটবল দলের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীবও এই ফলকে অবিশ্বাস্য বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, দলের প্রতি নিবেদন, এলাকার মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং খেলোয়াড় হিসেবে জনপ্রিয়তা—সবকিছু মিলিয়েই আমিনুলের জয় প্রত্যাশিত ছিল।

দাবায় উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, আমিনুল শুধু জনপ্রিয় খেলোয়াড়ই নন, রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও তিনি যোগ্য। নির্বাচনে তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন, তাই এই ফল তার জন্য হতাশাজনক। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মিরপুরের তিনটি আসনেই বিএনপির পরাজয় হয়েছে, ফলে এখানে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে।

বিপ্লব ভট্টাচার্য্যের মতে, রাজনীতি জটিল ক্ষেত্র। কাছের অনেকেই হয়তো যথাযথভাবে সহযোগিতা করেননি। যদিও সাবেক ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকেরা প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন এবং বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও কয়েকদিন প্রচারণায় অংশ নেন।

নির্বাচনের আগে ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা ছিল, বিএনপি সরকার গঠন করলে আমিনুল ক্রীড়ামন্ত্রী হতে পারেন। সংসদ সদস্য না হলেও তাকে টেকনোক্রেট হিসেবে মন্ত্রী করা সম্ভব বলে মত দেন নিয়াজ মোর্শেদ। তার মতে, বর্তমান সময়ে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য আমিনুলই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। বিপ্লবও মনে করেন, তার ত্যাগ ও যোগ্যতার স্বীকৃতি দেওয়া হলে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রই উপকৃত হবে।

এবার নির্বাচনে সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে কয়েকজন জয়ী হয়েছেন। তবে আমিনুলের পরাজয় ক্রীড়াঙ্গনে হতাশা তৈরি করেছে।

ভোটের লড়াইয়ে কখনো আমিনুল এগিয়েছেন, আবার কখনো এগিয়ে ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আব্দুল বাতেন। শেষ পর্যন্ত আব্দুল বাতেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর আমিনুল হক পান ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট—ব্যবধান ৩ হাজার ৩৬১।

ঢাকা-১৬ আসনে মোট ১৩৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৪৯৯ জন। এর মধ্যে ভোট দেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৬৩ জন, যা প্রায় ৪৬ শতাংশ। বাতিল ভোট ছিল ৩ হাজার ৭৬৪টি এবং বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৯৯। এই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্যদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম পান ৩ হাজার ৬৭৯ ভোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী সুলতান আহম্মেদ সেলিম পান ১ হাজার ৪৬৪ ভোট।

চূড়ান্ত ফল ঘোষণার মাধ্যমে আমিনুল হকের পরাজয় নিশ্চিত হলে ক্রীড়াঙ্গনে তা নিয়ে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।