
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারীও স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে সলুয়া বাজার এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও আব্দুল আলিম পলাশ (৩৪)। উভয়ের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়মনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামে। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পেশায় মুদি দোকানি রফিকুল ইসলাম প্রায় দুই বছর আগে একই গ্রামের পলাশের কাছ থেকে ৮ শতক জমি কিনেছিলেন। সম্প্রতি ওই জমির মালিকানা ও মূল্য নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এক ব্যক্তি পলাশকে উসকানি দিয়ে দাবি করেন যে, রফিকুল কম দামে জমি কিনেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পলাশ জমি ফেরত চাইলে রফিকুল তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
নিহত রফিকুলের চাচাতো ভাই শফিয়ার রহমান জানান, মঙ্গলবার বিকেলে দোকান থেকে বাইসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে সলুয়া আদর্শ ডিগ্রি কলেজের সামনে পলাশ ধারালো অস্ত্র নিয়ে রফিকুলকে ধাওয়া করেন। প্রাণ বাঁচাতে রফিকুল বাজারের এক আড়তে আশ্রয় নিলেও সেখানে তাকে হাসুয়া দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপানো হয়। ব্যবসায়ীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে হামলাকারী পলাশকে ধরে গণপিটুনি দেয়।
আহত অবস্থায় রফিকুলকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইলের কালনা ঘাট এলাকায় তিনি মারা যান।
অন্যদিকে, নিহত পলাশের মা পরিচ্ছন্ন খাতুন দাবি করেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে পলাশকে মারধর করা হয় এবং প্রাণ বাঁচাতেই সে হামলা চালায়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, রফিকুলের মাথা, চোখ, নাক, কানসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিকেল ৫টার দিকে পলাশকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফারুক আহমেদ জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।