
টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে উন্নয়নের নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর উত্থাপিত সাত দফা দাবি। নির্বাচনী জনসভায় এসব দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সরাসরি ঘোষণা না দিলেও, টাঙ্গাইল পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার বিষয়টি যে অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে—সে ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে টাঙ্গাইল সদরের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় আয়োজিত জনসভায় তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করলে এবং সরকার গঠন হলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সাত দফা দাবি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু হবে।
এই ঘোষণায় টাঙ্গাইলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা। চায়ের দোকান, অফিস-আদালত থেকে শুরু করে নানা আড্ডায় দিনভর এসব দাবি নিয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। যোগ্য নেতৃত্ব ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে টাঙ্গাইল উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে যাবে—এমন আশাই করছেন তারা।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে যমুনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের জন্য স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মাহমুদনগর ও কাশিনগর এলাকায় দুটি সেতু স্থাপন, করটিয়া সাদত বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, একটি শক্তিশালী ইকোনমিক জোন গঠন, পর্যটন কেন্দ্র উন্নয়ন এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল স্থাপন। এর পাশাপাশি জনসংখ্যা, আয়তন ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বিবেচনায় টাঙ্গাইল পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবিটিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে টাঙ্গাইলের উন্নয়নকে শুধু প্রশাসনিক কাঠামোয় সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনীতি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি ও টুপি আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এসব শিল্পকে রপ্তানিমুখী করা সম্ভব, যা স্থানীয় মানুষের জীবনমান বদলে দিতে পারে।
যমুনা নদীকেন্দ্রিক পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়নকে বড় সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থায়ী বাঁধ ও নদীপথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে কম খরচে শিল্পকারখানা পরিচালনা সম্ভব হবে। এতে বিনিয়োগ বাড়বে এবং টাঙ্গাইল ধীরে ধীরে শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত হবে।
জনসভায় জেলার অন্যান্য সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা আলাদা দাবি না তুললেও, সদরের মানুষের পক্ষ থেকে টুকুর সাত দফা দাবি তুলে ধরাকে স্থানীয়রা প্রশংসার সঙ্গে দেখছেন। তাদের বিশ্বাস, এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে টাঙ্গাইল আধুনিক ও সমৃদ্ধ নগরীতে রূপ নেবে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনী জনসভায় সাত দফা দাবির বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি টাঙ্গাইল সিটি করপোরেশনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে—টাঙ্গাইলের উন্নয়নের এই স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নেয়।