চীন–ঘনিষ্ঠতায় বিপদ, ব্রিটেনকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

image 265

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চীন সফর ও বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগকে ‘খুবই বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্টারমার যখন বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের কথা বলছেন, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন থেকে এই কড়া সতর্কবার্তা আসে।

আট বছর পর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্টারমারের চীন সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বসেন স্টারমার। সফরের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ পণ্যের জন্য চীনা বাজারে প্রবেশ সহজ করা, শুল্ক কমানো এবং বিনিয়োগ বাড়ানো।

বৈঠক শেষে স্টারমার জানান, যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে একটি পরিপক্ক ও ইতিবাচক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সও সফরটিকে সফল বলে অভিহিত করেছে।

তবে স্টারমারের এই উদ্যোগে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা যুক্তরাজ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করে অর্থনৈতিক চুক্তি করায় কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো চীনের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকলে তা ওয়াশিংটন মেনে নেবে না।

যদিও ট্রাম্প নিজেই আগামী এপ্রিলে চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন এবং শি জিনপিংকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন, তবুও মিত্র দেশগুলোর চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

ট্রাম্পের মন্তব্যে ডাউনিং স্ট্রিটে অস্বস্তি তৈরি হলেও স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে না। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রেখেই চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ সম্ভব।

এদিকে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক মন্তব্য করেছেন, চীনে রপ্তানি করা অত্যন্ত কঠিন এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য খুব বেশি সাফল্য পাবে না।

চীন সফর শেষে স্টারমার বর্তমানে জাপানের পথে রয়েছেন, যেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন। ট্রাম্পের অনিশ্চিত পররাষ্ট্রনীতি ও সম্ভাব্য শুল্কের ঝুঁকি এড়াতেই অনেক পশ্চিমা দেশ এখন চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, চীনের সঙ্গে বড় কোনো চুক্তিতে গেলে যুক্তরাজ্যকে ওয়াশিংটনের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।