
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা তাঁত শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে সুতা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অবৈধ সুতা রংয়ের কারখানা। তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখার নামে এসব প্রসেস মিল লোকালয়ের ভেতর স্থাপন করায় স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।
বেলকুচি উপজেলার ক্ষিদ্রমাটিয়া বোল্ডার বাজার ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তাঁতে ব্যবহারের উপযোগী করতে সুতার সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রং ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। রং করার পর সেই বিষাক্ত কেমিক্যালের বর্জ্য স্থানীয় পুকুর, খাল, নালা, খোলা মাঠ এমনকি যমুনা নদীতেও ফেলে দেওয়া হচ্ছে। খোলা জায়গায় এসব বর্জ্য ফেলায় এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ডাইং কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরাও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মানছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। সুতা প্রসেসিং মিলে ব্যবহৃত ক্ষতিকর কেমিক্যালের বর্জ্যে আশপাশের নলকূপের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে তারা ওই পানি পান কিংবা ব্যবহার করতে পারছেন না। দুর্গন্ধের কারণে ঠিকমতো শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। যারা বাধ্য হয়ে আশপাশের টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করছেন, তারা বিভিন্ন চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে একটি সুতা রংয়ের কারখানার মালিক অভিজিৎ রায় বলেন, তাঁত কারখানার জন্য সুতা রং করা জরুরি। তাই লোকালয় থেকে কিছুটা দূরে কারখানা স্থাপনের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, কারখানায় ব্যবহৃত ক্ষতিকর বর্জ্য যমুনা নদীর একটি শাখায় ফেলা হচ্ছে।
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান জানান, উপজেলায় যেসব এলাকায় অবৈধ সুতা রংয়ের কারখানা রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অনেক কারখানাকে জরিমানাও করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও এসব অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে তিনি জানান।