
ইফতেখার হোসাইন, প্রতিবেদক :
উনবিংশ শতকের শেষভাগে ইউরোপীয় দেশগুলো আফ্রিকা মহাদেশকে তাদের শিল্প বিপ্লবের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদভাণ্ডার হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে। তবে শুধুমাত্র বাণিজ্যের মাধ্যমে নয়, তারা আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদের উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। সেইসাথে, তথাকথিত “সভ্যতা উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় আফ্রিকা দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়, যা পরে “Scramble for Africa” নামে পরিচিত হয়।
ব্রিটেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল, জার্মানি ও বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ড বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের পতাকা গেড়ে অঞ্চল দখল করতে থাকে। এতে ইউরোপে বিভিন্ন দেশ সংঘর্ষের মুখে পড়ে। বিশেষ করে, পশ্চিম আফ্রিকায় ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মধ্যে এবং মধ্য আফ্রিকায় লিওপোল্ড ও ফরাসিদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
এই সংঘাত এড়াতে ১৮৮৪-৮৫ সালে জার্মান চ্যান্সেলর অটো ফন বিসমার্ক বার্লিনে এক সম্মেলনের আয়োজন করেন। তবে এখানে কোনো আফ্রিকান রাষ্ট্র বা নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

বার্লিন সম্মেলনের প্রধান সিদ্ধান্ত
- ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে আফ্রিকার অঞ্চল বণ্টনের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়।
- কঙ্গো ও নাইজার নদী অববাহিকায় অবাধ বাণিজ্য নিশ্চিত করা হয়।
- শুধুমাত্র পতাকা উড়িয়ে নয়, কার্যকর প্রশাসন স্থাপনের মাধ্যমে অঞ্চল দখলের নীতি গ্রহণ করা হয়।
- দাসব্যবসা দমন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর “নৈতিক ও বস্তুগত কল্যাণ” নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
ফলাফল ও প্রভাব
বার্লিন সম্মেলনের পর ১৮৯০ সালের মধ্যে প্রায় ৯০% আফ্রিকা ইউরোপীয় উপনিবেশে পরিণত হয়। উপনিবেশ স্থাপনের সময় ইউরোপীয় শক্তিগুলো স্থানীয় জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির পার্থক্য উপেক্ষা করে অঞ্চল ভাগ করেছিল, যা পরবর্তী সময়ে আফ্রিকার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্বাধীনতার পর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে গৃহযুদ্ধ ও সামরিক শাসনের উত্থান ঘটে, যা অনেক ক্ষেত্রেই ইউরোপীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ কারণেই আফ্রিকার অনেক দেশ এখনো উপনিবেশবাদ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
তানজানিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জুলিয়াস নিয়েরেরে এই পরিস্থিতিকে বর্ণনা করে বলেছিলেন—
“আমরা ১৮৮৪ সালে বার্লিন সম্মেলনে কৃত্রিম ‘জাতি’ তৈরি করেছি, আর এখন আমরা এই জাতিগুলোকে একটি স্থিতিশীল সমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে লড়াই করছি।”
/হ্যাভেন টিভি ডট প্রেস

