
ইফতেখার হোসাইন, প্রতিবেদক :
আমেরিকার ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশাল শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কারণে। এটি ব্যয়ের হার, কর্মসংস্থান এবং বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
মুডি’স-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি সিএনএনকে বলেছেন, “ট্রাম্পের অধীনে যে পরিবর্তনগুলো ঘটছে, তা নজিরবিহীন এবং এটি মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। যদি আত্মবিশ্বাস আরও তিন মাস ধরে কমতে থাকে এবং ভোক্তারা ব্যয় কমিয়ে দেয়, তাহলে সব শেষ।”
ভোক্তা আস্থার সূচক ফেব্রুয়ারিতে তীব্রভাবে কমেছে, যা আগস্ট ২০২১-এর পর সর্বোচ্চ পতন। ছোট ব্যবসায়ীদের অনিশ্চয়তা সূচকও জানুয়ারিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
ওয়াল স্ট্রিটেও হতাশার ছাপ স্পষ্ট। সিএনএন-এর ফিয়ার অ্যান্ড গ্রিড সূচক অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের মনোভাব মঙ্গলবার ‘চরম ভয়ের’ স্তরে পৌঁছায়, যা শেষবার ঘটেছিল গত ডিসেম্বরে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সাধারণত নেতিবাচক মনোভাব ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে না।
মন্দার আশঙ্কা নেই, তবে খরচের প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ
মার্কিন অর্থনীতির ৭০% নির্ভর করে ভোক্তা ব্যয়ের ওপর। খুচরা বিক্রয়ও সামগ্রিক ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে। জানুয়ারিতে খুচরা বিক্রয় ০.৯% হ্রাস পেয়েছে, যা আগস্ট ২০২৪-এর পর প্রথম পতন। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শীতের প্রকোপের কারণে এটি সাময়িক হতে পারে।
ওয়ালমার্ট সতর্ক করেছে যে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও ঋণের উচ্চ সুদের কারণে কম আয়ের ভোক্তারা চাপে পড়েছেন। যদিও আমেরিকার কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এখনো ভালো অবস্থানে রয়েছে, তবে সরকারি কর্মীদের ছাঁটাই জনগণের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন সরকারি কর্মী সংখ্যা কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যা প্রায় ৩ মিলিয়ন নাগরিক কর্মীকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সামগ্রিক শ্রমবাজারকে দুর্বল করে ফেলবে না। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ গ্রেস জুয়েমার বলেছেন, “বেকারত্বের হার সামান্য বাড়তে পারে, তবে তা স্থিতিশীল থাকবে।”
/হ্যাভেন টিভি ডট প্রেস
