শুটিং ঘটনার তদন্তে বান্ধবী ঝুমুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ

image 68

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে জনসম্মুখে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের ধারণা, হত্যায় পেশাদার শুটার জড়িত থাকতে পারে। তবে এখনও হত্যার মোটিভ স্পষ্ট হয়নি। এ ঘটনায় নিহতের বান্ধবী ঝুমুর মণ্ডলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কপালিয়া বাজারে রানা প্রতাপের মাথায় একাধিক গুলি করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ সেখান থেকে সাতটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। তবে হত্যার পেছনের প্রকৃত নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা যায়নি। নিহত রানা প্রতাপ কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে।

নিহতের স্ত্রী সীমা বৈরাগী বলেন, কপালিয়া বাজারে রানার বান্ধবী ঝুমুর মণ্ডলের ‘ঝুম বিউটি পার্লার’ রয়েছে। ঝুমুর মণ্ডলের সঙ্গে তার স্বামীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় মাঝে মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হতো। সীমার দাবি, ঝুমুর মণ্ডল মোবাইল ফোনে রানা প্রতাপকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছেন। তিনি ধারণা করেন, হত্যার সঙ্গে ঝুমুরের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, রানা প্রতাপ একসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি চরমপন্থি দলের সদস্য ছিলেন। তিনি খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধেও জড়িত ছিলেন। ফলে এটি প্রতিপক্ষের প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মণিরামপুর থানার ওসি রজিউল্লাহ খান জানান, তদন্তে তিনটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে—নিষিদ্ধ চরমপন্থি দল ত্যাগের জের, পেশাগত দ্বন্দ্ব এবং ব্যবসায়িক শত্রুতা। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং খুনিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার বলেন, রানা প্রতাপ একজন চরমপন্থি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় একটি বিস্ফোরক মামলা এবং অভয়নগর থানায় শ্রমিক নেতা হত্যাসহ দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া তিনি খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ছিলেন।