ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশে একের পর এক ঘূর্ণিঝড় ও টানা ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্টি হওয়া বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৯১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্তত ২৭৪ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

আচেহ প্রদেশের তামিয়াং জেলার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বন্যার কারণে খাদ্য, পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় স্থানীয়রা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন। তামিয়াং জেলার একটি ইসলামি আবাসিক স্কুলের ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী দিমাস ফিরমানসিয়াহ জানান, বন্যার কারণে সে ও স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থী গত এক সপ্তাহ ধরে হোস্টেলে আটকা রয়েছেন এবং পানির অভাবে বন্যার পানি পান করতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, সরকারি সহায়তা কেন্দ্রগুলো থেকে খাবার ও পানি সংগ্রহ করতে তাদের সীমাহীন কষ্ট করতে হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবাও সুবিয়ান্তো কয়েক দিন আগে বলেছেন, বন্যার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি করছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি সন্তোষজনক। তবে সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশের প্রশাসন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একমত নয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার আহ্বান জানাচ্ছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, বনজঙ্গল উজাড় এবং অবৈধ খনি খননই বন্যা ও ভূমিধসের মূল কারণ। তারা চীনের অর্থায়নপুষ্ট নর্থ সুমাত্রা হাইড্রো এনার্জি এবং স্বর্ণ খনির অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী এগিনকোর্ট রিসোর্সেসকে দায়ী করেছেন। রয়টার্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে উভয় কোম্পানি কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার ও তার আগে-পরে একাধিক মৌসুমি ঝড় এবং ভারী বর্ষণের কারণে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা শুরু হয়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশ। বন্যার সঙ্গে সেগুলোর বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে, যা মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।
— সূত্র: রয়টার্স