
ইসরায়েলি আগ্রাসনে টানা দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা শিক্ষা কার্যক্রম ধীরে ধীরে পুনরায় শুরু করেছে গাজার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও আংশিক ধ্বংসস্তূপে পরিণত ভবনেই শিক্ষার্থীরা আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরতে শুরু করেছেন—যা গাজার মানুষের জীবন ও শিক্ষাকে পুনর্গঠনের দৃঢ় ইচ্ছারই প্রতিফলন।
রোববার (৩০ নভেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির বরাতে মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আংশিকভাবে মেরামত করা ভবনের ফাটলধরা দেয়ালের ভেতর শত শত শিক্ষার্থী সশরীরে ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন।
যুদ্ধের কারণে দুই বছর শিক্ষা বন্ধ থাকার পর, গত শনিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো সরাসরি ক্লাস চালু করে।
গাজা মিডিয়া অফিস জানায়, ইসরায়েলি হামলায় ১৬৫টি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। আরও ৩৯২টি প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, যা গাজার শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রায় অচল করে দিয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু অংশে এখনো আশ্রয় নিয়ে আছেন শত শত বাস্তুচ্যুত পরিবার—যাদের বাড়িঘর ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের জন্য বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি সহায়তা চেয়েছে।
সশরীরে শিক্ষায় ফেরাকে “ঐতিহাসিক দিন” হিসেবে উল্লেখ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আসাদ ইউসুফ আসাদ বলেন, “গণহত্যার ভয়াবহতা সত্ত্বেও আমরা আবার শিক্ষায় ফিরছি।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্ব জানে—ফিলিস্তিনিরা জীবনকে ভালোবাসে, শিক্ষাকে ভালোবাসে।”