শ্রীলঙ্কায় বন্যা–ঘূর্ণিঝড়ে মৃতের সংখ্যা ১৯৩

image 406

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এখনও ২২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ, যাদের মধ্যে পাঁচজন নৌ–সেনা সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (৩০ নভেম্বর) কলম্বোর কর্তৃপক্ষ জানায়, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে, আর বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, দেশের মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেসব এলাকায় পানি কমতে শুরু করায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসছে। স্বেচ্ছাসেবীরা ভূমিধস ও গাছপালা পড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কগুলো পরিষ্কার করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের (ডিএমসি) এক কর্মকর্তা জানান, ‘‘ঘূর্ণিঝড় এলাকা থেকে সরে গেলেও উজানে এখনও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কেলানি নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত রয়েছে।’’

এদিকে কলম্বো থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরের মানাম্পিটিয়া শহরে পানি কমতে শুরু হয়েছে, আর পানির নিচে থাকা ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সী এস শিবানন্দন বলেন, ‘‘এ এলাকা বন্যাপ্রবণ হলেও জীবনে এত পানি কখনও দেখিনি।’’

পাহাড়ি ঢালের স্থিতিশীলতা–পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ন্যাশনাল বিল্ডিং রিসার্চ অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, ঢালগুলো এখনও ভেজা থাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়ে গেছে।

ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিসানায়েকে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তার আহ্বানে প্রথম সাড়া দিয়েছে ভারত—তারা ত্রাণসামগ্রী ও দুটি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে। আরও দুটি হেলিকপ্টার পাঠানোর কথাও জানিয়েছে। পাকিস্তান উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে, আর জাপান তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মূল্যায়নে প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে ও সহায়তার অঙ্গীকার করছে।

চলমান সংকটে ২৫ হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং ১ লাখ ৪৭ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে হয়েছে। বন্যায় বাস্তুচ্যুত আরও প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার মানুষের সহায়তা প্রয়োজন। সামরিক বাহিনীর তিন শাখার সদস্যদের সঙ্গে বেসামরিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের পর এটিই শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ওই বছর বন্যা ও ভূমিধসে ২০০ জনের বেশি প্রাণহানি ঘটে। আর চলতি শতকের সবচেয়ে বড় বন্যা হয়েছিল ২০০৩ সালের জুনে, যখন ২৫৪ জন মারা গিয়েছিলেন।