তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন আজ, উৎসব না করার নির্দেশ

image 269

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন আজ। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম নেওয়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তিনি।

এ উপলক্ষে কেক কাটা, পোস্টার-ব্যানার লাগানো কিংবা আলোচনা সভা– কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বা উৎসব না করার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে ঢাকাসহ সারাদেশের সব ইউনিটকে জানানো হয়েছে—যদি কেউ এসব আয়োজনের পরিকল্পনা করে থাকেন, তা বাদ দিয়ে পরিবর্তে অর্থ দান করতে হবে।

তারেক রহমানের শৈশব কেটেছে সাদামাটা পরিবেশে, যেখানে পরিবারের মূলমন্ত্র ছিল সরল জীবনযাপন। স্কুল জীবন শুরু হয়েছিল ঢাকা সেনানিবাসের শাহীন হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে, যা সে সময় কেবল সেনা সদস্যদের সন্তানদের জন্য ইংরেজি-মাধ্যম প্রতিষ্ঠান ছিল।

তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, হবস, লক, রুশো, ভলতেয়ার থেকে শুরু করে কার্ল মার্কস পর্যন্ত বিশ্বখ্যাত চিন্তাবিদদের ভাবনায় গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন তিনি।

তারেক রহমান যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, তখন তার মা বেগম খালেদা জিয়া এরশাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান থাকার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতিমুখী হয়ে ওঠেন।

১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপি থেকে প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে দলের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং পরে জাতীয় প্রচারণা কৌশল কমিটির সদস্য হিসেবে তার মা খালেদা জিয়ার পাঁচটি আসনের নির্বাচনী প্রচার সফলভাবে সমন্বয় করেন। পাঁচ আসনেই খালেদা জিয়ার বিপুল বিজয় তারেক রহমানের সংগঠক দক্ষতার প্রমাণ দেয়।

পরবর্তীতে ওয়ান-ইলেভেনের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি একাধিক নির্যাতন, ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যা মামলার শিকার হন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে টার্গেট করা হয়, নির্যাতন চালানো হয়।

দেশে দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসন ও স্বৈরাচার মোকাবিলায় তিনি কাঠামোগত সংস্কারের ধারণা দেন এবং ৩১-দফা দেশ সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যেখানে নির্বাহী, বিচার বিভাগ ও আইনসভা—সবই অন্তর্ভুক্ত ছিল। জনগণের সমর্থন পাওয়া এই পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি এমন এক বাংলাদেশ কল্পনা করেন, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধি নিয়ে বাস করতে পারবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তারেক রহমান মাতৃভূমিকে স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য তুলে ধরেন। তিনি ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে জলবায়ু-সহনশীল জাতিতে পরিণত করা, বিশ্ব উষ্ণায়ন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করা এবং একটি দক্ষতা ও যোগ্যতা-ভিত্তিক সমাজ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন।

তার বিজয়ী প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র—এমন প্রত্যাশা করছে দেশবাসী। আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।