‘এরা তো শিবির স্যার, নতুন ফোর্স লাগবে’— ডিসি মাসুদের ফোনালাপ ভাইরাল

image 258

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম আবারও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ছাত্র–জনতার ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঠিক আগে তাঁর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনালাপের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়— “এরা তো শিবির স্যার, আমাদের এখানে নতুন কিছু ফোর্স লাগবে।” মন্তব্যটি নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার সময় ধানমন্ডি ৩২–এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে এক্সকাভেটর নিয়ে ভাঙচুর করতে গেলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাধা দেয়। এরপর কয়েক দফা সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ওই সময়ই ডিসি মাসুদের ফোনালাপটি ধারণ করা হয় এবং পরে অনলাইনে ভাইরাল হয়।

‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করে, আন্দোলন দমনে এখনো ‘শিবির ট্যাগ’ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ডিসি মাসুদ আন্দোলনকারীদের শিবির আখ্যা দিয়ে কঠোর পদক্ষেপের অনুমতি চেয়েছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

ডিসি মাসুদকে ঘিরে এর আগেও বিতর্ক উঠেছে। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় এক ছাত্রের মুখ চেপে ধরার ছবি তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। আবার পাবনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন— সে ভিডিওটিও ভাইরাল হয়েছিল।

এ ছাড়া বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তিনি প্রশংসা পেয়েছেন। গত মে মাসে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে দলটিকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে তিনি খেলার মাঠ থেকে জার্সি পরা অবস্থায় ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন— যা আলোচনায় আসে।

তবে বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। গত ১৫ এপ্রিল সায়েন্সল্যাবে সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন— “এই সংঘর্ষের কারণ কেউ বলতে পারবে না, আল্লাহ ছাড়া।” সেই মন্তব্যও সমালোচনার জন্ম দেয়।

ডিসি মাসুদ বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি র‌্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করেন, পরে পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হন। পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর গত বছরের ৫ আগস্ট তিনি ডিএমপিতে বদলি হয়ে রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে যোগ দেন।