
২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে এক সপ্তাহ হলেও বিএনপি এখনও শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে পারেনি। এতে জোটের কিছু শরিক দল অসন্তুষ্ট। তাদের ধারণা, যদি বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে নেমে যায়, পরে আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা কঠিন হবে।
বিএনপির শীর্ষ নেতারাও স্বীকার করেছেন যে, শরিকদের জন্য আসন চূড়ান্তে দেরি হলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হবে। কারণ অনেকে পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে পারেন, যা শরিকদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ৬৩টি আসন এখনও ফাঁকা থাকলেও সর্বোচ্চ ৪০টি আসন বিএনপি শরিক ও মিত্র জোটকে দিতে পারে। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সমঝোতা না হলে শরিকদের জন্য আসন সংখ্যা কমে ২৩টি হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, শরিকদের আসন নিয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। খুব দ্রুত বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যারা শরিকদের সঙ্গে লিয়াজো করছেন, তাদের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নেবেন।
অন্যদিকে, অন্তত দশটি শরিক দলের শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে জানান, তাদের প্রত্যাশিত আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই শোডাউন ও গণসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এতে শরিকরা নিজে মাঠে নামতে পারছেন না। একই আসনে বিএনপির প্রচারণা চললে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একজন শরিক দলের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপির নীতিনির্ধারকদের আমরা বাস্তব পরিস্থিতি জানিয়ে দ্রুত সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছি। দেরি হলে ক্ষতি হবে সবার।
শরিকদের মধ্যে কিছু নিবন্ধিত দলের নেতারা আরও জানান, নির্বাচনে জোটে থাকলেও তাদের নিজস্ব প্রতীক ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু বিএনপির প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই ধানের শীষ প্রতীকে প্রচারণা শুরু করেছেন। পরবর্তীতে আসন ছাড় দেওয়ার পরও ভোটারদের মধ্যে অন্য প্রতীকের পরিচিতি তৈরি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শরিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের প্রার্থিতা নির্ধারণে অতীত আন্দোলনে ভূমিকা, জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সরকারের সম্ভাব্য ভূমিকা বিবেচনা করা হচ্ছে।