টুকু জামায়াতকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘ইসলাম কায়েম করার জন্য তোমাদের প্রয়োজন নেই।

image 185

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের মানুষের কারও কাছ থেকে নতুন করে শেখার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, হজ-জাকাত আদায় করে। ইসলাম কায়েমের জন্য তোমাদের (জামায়াত) প্রয়োজন নেই।”

বুধবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী হিসেবে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জেলা বিএনপির আয়োজনে শহরের রেলগেট এলাকার ট্রাক টার্মিনালে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতকে উদ্দেশ করে টুকু আরও বলেন, “আপনারা কখনো দেশের মঙ্গল চাননি। পাকিস্তান আমলে মওদুদী লাহোরে দাঙ্গা সৃষ্টি করে হাজার হাজার কাদিয়ানিকে হত্যা করেছিলেন, যার দায়ে আইয়ুব খান তাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন। পরে তিনি পালিয়ে বেঁচে যান। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও আপনারা পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আলবদর ও আল শামস গঠন করেছিলেন। তখন আমাদের মা-বোনদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। এমনকি যুদ্ধের সময় ফতোয়া দিয়েছিলেন, নারী নাকি তাদের হক! এখনো আপনারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাননি।”

তিনি বলেন, “জামায়াতের আমির বলেছেন, গণভোট ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। এর মানে তারা নির্বাচনে আসতে ভয় পায়। তাদের রাজনীতি একসময় নিষিদ্ধ ছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন বলেই আজ তারা রাজনীতি করতে পারছে। এখন তারা সেই দলকেই হুমকি দিচ্ছে— এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “১৯৬৯ সালের আন্দোলনে আমরা মাঠে ছিলাম। তখন মওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিব নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। ছাত্ররা আন্দোলন করে আইয়ুব খানের পতন ঘটিয়েছিল। কিন্তু কেউ বলেনি, আমরা পতন ঘটিয়েছি বলে ক্ষমতায় অংশ নেব।”

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, যুগ্ম সহসভাপতি ভিপি শামীম খান, রাশেদুল হাসান রঞ্জন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রাজেশসহ দলের অন্যান্য নেতারা। এর আগে বিকেলে সদর উপজেলার কড্ডার মোড়ে আরেক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টুকু।