এমপি পদে লড়বেন হিরো আলম

image 49

আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও মডেল আশরাফুল আলম, যাকে সবাই হিরো আলম নামে জানে, আবারও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগে একাধিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

이번বার তিনি জানান, এবার তিনি বগুড়া নয়, ঢাকার ১৭ নং আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই আসনে সবচেয়ে আলোচিত ও শক্তপ্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থ, যিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) থেকে লড়বেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ, এনসিপি এবং আরও কয়েকটি দলের প্রার্থী রয়েছেন। আপাতত হিরো আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন, যদিও তিনি জানিয়েছেন যে অনেক দল তার সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

তিনি বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়া আমার কাছে শুধু জয়ের বিষয় নয়, এটা একটি প্রতিবাদের মাধ্যমও। যেমন আগে প্রতিবাদ করেছি, এবারও করব। দেশের মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন চাই—আমিও চাই। কিন্তু নির্বাচনের ওপর নানা টালবাহানা চলছে, এজন্যই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমি ১০০ ভোট পেলেও কোনো সমস্যা নেই। মূল কথা হচ্ছে, মানুষ উৎসবমুখরভাবে ভোট দিতে আসুক।”

হিরো আলম আরও জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন দলের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। যদি কোনো দলের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হয়, তবে তিনি সেই দলে যোগ দেবেন; নইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকবেন।

নিজেকে নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে হিরো আলম বলেন, “আমি সংসদে যেতে চাই গরিব, প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষদের প্রতিনিধি হয়ে। কারণ আমি বিশ্বাস করি দেশের আসল শক্তি ওই পরিশ্রমী মানুষের মধ্যেই আছে। তারা সারাদিন শ্রম দিয়ে দেশ এগিয়ে নেয়, কিন্তু রাষ্ট্রের সেবা পেতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত হয়। আমি তাদের জন্য কাজ করতে চাই এবং মাঠে থাকতে চাই।”

ঢাকা-১৭ আসন ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান, বনানী, বারিধারা, মহাখালী ও মিরপুরের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৫ হাজার ২০৫ জন। এর আগে হিরো আলম এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর তা দুইবার বাতিল হয়, পরে আদালতের আদেশে পুনর্বহাল হয় এবং সিংহ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। তবে নির্বাচনের দিন ভোটের কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

এরপর ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে তিনি আবারও প্রার্থী হন। নির্বাচনের দিন একটি কেন্দ্রে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, যা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে নিন্দা জানিয়েছিল।