জামায়াতের নিন্দা ও নাহিদ ইসলামের জন্য সতর্কবার্তা

image 459

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পোস্টে করা মন্তব্যকে অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব (জুবায়ের) রোববার রাতে এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, “জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক স্ট্যাটাসে জামায়াতে ইসলামের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মন্তব্য অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। তিনি আমাদের পিআর দাবির আন্দোলনকে প্রতারণামূলক ও রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও দুঃখজনক। তার বক্তব্যের অর্থ আমাদের কাছে স্পষ্ট নয় এবং জাতি এমন ধরনের বালখিল্য বক্তব্য আশা করে না।”

এহসানুল মাহবুব বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার দাবিতে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় এবং রাজপথে জামায়াতে ইসলামী দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছে। তাই নাহিদ ইসলামের মন্তব্যের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।”

তিনি নাহিদ ইসলামকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এর আগে শনিবার বিকেলে নাহিদ ইসলাম ফেসবুকে লিখেছিলেন, জামায়াতে ইসলামের পিআর আন্দোলন একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়। তাঁর দাবি, জনগণের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র ও সংবিধানের পুনর্গঠনের প্রকৃত বিষয় থেকে জাতীয় সংলাপ ও ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়াকে অন্য পথে প্রবাহিত করতে এই আন্দোলন করা হয়েছিল।

নাহিদ আরও লিখেছেন, ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ভিত্তিক উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার দাবিটি সাংবিধানিক সুরক্ষা হিসেবে করা হয়েছিল। কিন্তু জামায়াত ও তার মিত্ররা এ এজেন্ডাকে হাইজ্যাক করে কেবল পিআর ইস্যুতে সীমাবদ্ধ করেছে এবং দলীয় স্বার্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। তার মতে, জামায়াতের উদ্দেশ্য কখনো সংস্কার ছিল না, এটি ছিল কৌশল মাত্র।

তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী জুলাই অভ্যুত্থানের আগে বা পরে কোনো সংস্কার আলোচনায় অংশ নেননি এবং কোনো বাস্তব প্রস্তাব, সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি বা গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি প্রদান করেনি।