দেশে প্রথমবার শনাক্ত চিকেন অ্যানিমিয়া ভাইরাসের নতুন ধরন

image 410

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা দেশের পোলট্রি খাতে নতুন উদ্বেগের বিষয় হিসেবে প্রথমবারের মতো Genotype IIIb টাইপের চিকেন অ্যানিমিয়া ভাইরাস (Chicken anemia virus) শনাক্ত করেছেন। দীর্ঘদিন দেশে এ ভাইরাসের উল্লেখযোগ্য প্রাদুর্ভাব না থাকলেও সম্প্রতি নরসিংদীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলজার হোসেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি পরিচালিত হয় এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মারজানা আকতার এটি সম্পন্ন করেছেন। গবেষণাটি ‘বাংলাদেশে মুরগির চিকেন অ্যানিমিয়া ভাইরাসের আণবিক অনুসন্ধান ও জিনগত বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় করা হয় এবং এর অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)।

গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য জার্নাল Microbiology Spectrum-এ প্রকাশিত হয়েছে। মারজানা আকতার জানান, আক্রান্ত মুরগির মধ্যে অ্যানিমিয়া, ফ্যাকাশে ঝুঁটি ও নীলচে ডানার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ময়নাতদন্তে thymus, spleen, bursa, liver এবং bone marrow-এ বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ল্যাবরেটরিতে সংগৃহীত নমুনার ডিএনএ বিশ্লেষণে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয় এবং সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিং করে দেখা গেছে, এটি Genotype IIIb প্রজাতির যা আগে কখনো বাংলাদেশে শনাক্ত হয়নি।

অধ্যাপক ড. গোলজার ও মারজানা আকতার জানান, ভাইরাসের জিনগত গঠন চীনের একটি স্ট্রেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বা পোলট্রি আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করতে পারে। VP3 প্রোটিনে নতুন মিউটেশন শনাক্ত হয়েছে, যা রোগের তীব্রতা ও ইমিউনোসাপ্রেশন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ড. গোলজার বলেন, “এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে সারকুলেটিং ভাইরাস সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি পূরণ করা এবং এর জিনোমিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা। কারণ ভাইরাসে মুরগি আক্রান্ত হলে অন্যান্য রোগের প্রতি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং খামারিদের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। ভবিষ্যতে এটি টিকা উন্নয়ন, রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে সহায়ক হবে।”

গবেষক দল মনে করেন, নতুন এই জেনোটাইপের বিস্তার রোধে জাতীয় পর্যায়ে ভাইরোলজিক্যাল মনিটরিং, ব্রিডার ফ্লক ভ্যাকসিন আপডেট এবং খামার পর্যায়ে বায়োসিকিউরিটি জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। অধ্যাপক ড. গোলজার হোসেন আরও বলেন, “সম্ভবত ব্রিডার ফ্লকে নিয়মিত ভ্যাকসিনেশন করা থাকায় আগে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি। তবে ২০২৩ সালে নরসিংদীর একটি বাণিজ্যিক ব্রয়লার খামারে হঠাৎ প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া যায় এবং এখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা গভীরভাবে গবেষণা শুরু করি।”