
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে রাকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শুরু করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম।
ঘোষিত আনুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা যায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে জয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদে নির্বাচিত হয়েছেন ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাহউদ্দিন আম্মার, আর অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি (এজিএস) পদে জয়ী হয়েছেন একইভাবে শিবির-সমর্থিত প্যানেলের এস এম সালমান সাব্বির।
এর আগে অনানুষ্ঠানিক ফলাফলেও তাদের বিজয় নিশ্চিত হয়।
রাকসুর মোট ২৩টি পদের মধ্যে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল জয়ী হয়েছে ২০টিতে। ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচিত প্রার্থীরা আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, আর সমর্থকরা মিলনায়তন মুখর করে তোলেন নানা স্লোগানে।
স্লোগানগুলোর মধ্যে শোনা যায়—
“নোমানীর রক্ত বৃথা যেতে দেব না!”,
“আসলামের রক্ত বৃথা যেতে দেব না!”,
“বিচার চাই, শাহবাগীদের বিচার চাই!”,
“ইনকিলাব জিন্দাবাদ!”,
“ওয়ান–টু–থ্রি–ফোর, পোষ্য কোটা নো মোর!”,
এবং আন্তর্জাতিক সংহতির স্লোগান—“ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি!”
এছাড়া “খুনি হাসিনার বিচার চাই” ধ্বনিও শোনা যায় সমর্থকদের মুখে।
শরীফুজ্জামান নোমানী ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা ও কর্মী।
তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার, সামাজিক উদ্যোগ এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন—রক্তদান, শিক্ষার্থী পুরস্কার বিতরণ থেকে শুরু করে অনাথ ও দুস্থদের সহায়তায় তিনি ছিলেন অগ্রগামী।
২০০৯ সালের ১৩ মার্চ ছাত্রলীগের হামলায় নিহত হন তিনি।
রাকসুর এই নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত প্যানেলের বিপুল জয়ের পর শিক্ষার্থীরা স্লোগানের মাধ্যমে নোমানীকে স্মরণ করেন।
এই উচ্ছ্বাস ও স্লোগানগুলো শুধু নির্বাচনী বিজয়ের প্রকাশ নয়—বরং তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতা, ন্যায়বোধ এবং সামাজিক ইস্যুতে তাদের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন।