যুক্তিতর্ক শেষ, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জমা

image 383

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। টানা পাঁচ দিনের যুক্তিতর্ক শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের জন্য চরম দণ্ড (মৃত্যুদণ্ড) দাবি করেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারিক প্যানেল, যার নেতৃত্ব দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, এ আবেদন গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে রাজসাক্ষী হিসেবে উপস্থিত সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের শাস্তির সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০ জন ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। একজনকে হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়, কিন্তু ১৪০০ জনের জন্য আইনের মধ্যে একই প্রক্রিয়া সম্ভব নয়। এজন্য আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য চরম দণ্ডের আবেদন করেছি। এ দণ্ড প্রয়োগ হলে দেশের জনগণ ন্যায়বিচার পাবেন।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে তাজুল ইসলাম আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেলেও ভারত থেকে আন্দোলনকারীদের হত্যার হুমকি দিয়ে চলেছেন শেখ হাসিনা। যাদের বিচার চাওয়া হয়েছে, তাদেরও হত্যা ও সম্পত্তি নষ্ট করার পরিকল্পনার কথা বলেছেন। এভাবে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের পরও অনুশোচনা দেখাননি।

তিনি বলেন, “তিনি একজন হার্ডনট ক্রিমিনালের ভূমিকায় ছিলেন। যেহেতু মামলায় সব অপরাধীদের প্রণেতা ছিলেন, তাই তাকে আইনানুযায়ী চরম দণ্ড দেওয়াই ন্যায়সংগত হবে। যদি দেওয়া না হয়, তাহলে এটা হবে অবিচার।”

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ক্ষেত্রে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি গ্যাং অব ফোর-এর সদস্য ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ড পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। ড্রোন ও হেলিকপ্টার থেকে মারণাস্ত্র ছোড়ার সিদ্ধান্তেও তার অংশ ছিল। তিনি নিজে গ্রাউন্ডে গিয়ে কার্যক্রমের যথার্থতা দেখেছিলেন এবং কমান্ড স্ট্রাকচারে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। এজন্য তার বিরুদ্ধেও চরম দণ্ডের আবেদন করা হয়েছে।

রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আদালতের সাহায্যে তথ্য প্রদান ও সত্য উদঘাটনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখায় তার শাস্তি আদালতের সিদ্ধান্তাধীন। পাশাপাশি, যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের জন্য আসামিদের সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণেরও নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।

গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলায় পাঁচটি মানবতাবিরোধী অভিযোগ আনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের নথি ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণ চার হাজার ৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকা দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। মোট ৮১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। মামলার প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেন।